স্কুলছাত্রী জান্নাতি।

নরসিংদীর হাজিপুরে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের পর এবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

১৬ জুন রবিবার রাতে নিহত জান্নাতির বাবা বাদী হয়ে জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগমকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে।

মামলার আসামিরা হলেন- নিহত জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগম (৪৫), স্বামী শিপলু ওরফে শিবু (২৩), ননদ ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। সবাই চর হাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

আটকরা হলেন- মাদক ব্যবসায়ী শান্তি বেগমের বোন সাথী আক্তার, দেবর নওসের মিয়া, খালা পারুল বেগম, খালাতো ভাই টিউলিপ, মামা রতন মিয়া ও খালাত ভাই জাহাঙ্গীর।

মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ১ বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের (১৬) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করে।

বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে শাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু জান্নাতিকে চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি হয়নি জান্নাতি। ফলে জান্নাতির ওপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন।

যৌতুকের টাকা না-দেয়াসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত না-হওয়ায় চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাশুড়ি শান্তি বেগম ও তার মেয়ে ফাল্গুনী বেগম এবং স্বামী শিপলু জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পর ২৫ এপ্রিল নিহতের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পৌনে দুই মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই।

এরই মধ্যে দীর্ঘ ৪০দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতির মৃত্যু হয়। ঘটনার পৌনে দুই মাস পার হলেও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি।

সর্বশেষ শনিবার রাতে জান্নাতিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হওয়ায় পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে শাশুড়ি শান্তি বেগম, স্বামী শিপলু ওরফে শিবু, ননদ ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ুন মিয়াকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন জান্নাতির বাবা।

সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পর পরই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস