আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম। ছবি: সিআইডি

১১ হাজার গ্রাহকের জমা করা ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং শত কোটি টাকা কানাডা পাচারের করেছেন আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম। এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

১৪ জুলাই রবিবার সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, আগেও একবার তাজুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান ও সাবেক ৩১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সমবায় অধিদপ্তর আড়াই কোটি টাকা করে। এ তাজুলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

১৯৮৪ সালে আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়। সমবায় অধিদপ্তর থেকে এই কোম্পানির কার্যক্রম সমগ্র বাংলাদেশে ২৬টি শাখার অনুমোদন নেয়। মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, কিন্তু তারা ৮০টি শাখা পরিচালনা করে ১১ হাজার ৪২৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করে। এই আমানত তারা আত্মসাৎ করে। জমা করা টাকার মেয়াদ পূর্তিতে গ্রাহকরা আসল ও লভ্যাংশ তুলতে গেলে তাদের সঙ্গে কালক্ষেপণ ও টালবাহানা করা হয়।

তাজুল ইসলাম ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন চৌধুরীসহ আরও কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে ১২টি তফসিলভুক্ত ব্যাংকে ৭৭টি হিসাবের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ব্যাংকের হিসাব বিবরণীর বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, সোসাইটির গ্রাহকদের ৩০০ কোটি টাকা নগদ ও অনলাইনে ট্রান্সফার করে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরে সেই টাকা নিজের এবং স্ত্রী আফরোজা পারভীন ও ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরের নামে রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে তারা সাউদি বাংলা প্রপাটিজ লি., তানভীর এন্টারপ্রাইজ, তানভীর অটো ব্রিক লি. নামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা স্থানান্তর করা হয়। এরপর সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীরসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যদের নামে চেক ইস্যু করে। তারপর তারা নগদ টাকা উত্তোলন করতেন।

আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড নামে নিবন্ধন নিলেও প্রতিষ্ঠানটি নামের সঙ্গে ‘ব্যাংক’শব্দটি ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করে তা দিয়ে জমি, ফ্ল্যাট ক্রয়, নামে-বেনামে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চালু এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার আটি মৌজায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে আজিজ কো-অপারেটিভ মুক্তিসরণী শপিং মল, টাওয়ার নামে ৬০ শতাংশ জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে। এভাবে অর্থ স্থানান্তর মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে মানি লন্ডারিং প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম, কর্মকর্তা সাজ্জাদুল ইসলাম তানভীর এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. জাকির চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে রমনা থানায় মামলা করেছে সিআইডি।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম তাজুল ইসলাম কানাডার গ্রিন কার্ডধারী এবং তার ছেলে ফারহাদুল ইসলাম ছাব্বির এবং রিয়াজুল ইসলাম রিজভী উভয়ে ২০১১ সাল থেকে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আসামি তাজুল ইসলাম সাধারণ গ্রাহকের জমা করা আমানত থেকে শতকোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাজুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির বর্তমান ও সাবেক ৩১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ ও সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সমবায় অধিদপ্তর সমবায় আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী ২.৪৬ কোটি টাকা জরিমানা করে, যা আজও সমিতির কোষাগারে জমা দেয়নি তারা। তাদের বিরুদ্ধে রমনা, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি রমনা থানার মামলা, বংশাল এবং আদালতে দুটি নালিশি মামলা রয়েছে বলে জানায় সিআইডি।

আজকের পত্রিকা/কেএফ