একটু সাবধনতায় বেঁচে যেতে পারে প্রাণ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ এক আতঙ্কের নাম গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। রাজধানীতে গ্যাস সংকট নিত্য সমস্যা হওয়ায় রান্নার ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বাড়ছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার।

মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার ও অসচেতনতার কারণে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহত হচ্ছে বহু মানুষ। এমন দুর্ঘটনার শিকার বেশিরভাগ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। আর ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মারাত্মক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয় জীবনভর।

চলুন জেনে নেয়া যাক গ্যাসের সিলিন্ডার দুর্ঘটনা এড়াতে কী করণীয়-

১। বায়ু চলাচল করে এমন স্থানে গ্যাসের চুলা থেকে যথেষ্ট দূরে, এলপিজি সিলিন্ডার রাখুন।

২। সিলিন্ডার কোনোভাবেই চুলার/ আগুনের পাশে রাখবেন না, এতে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

৩। চুলা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিচুতে রাখবেন না। কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে রাখুন।

৪। রান্না শুরু করার কমপক্ষে আধা ঘণ্টা আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন।

৫। রান্নাঘরের উপরে ও নিচে ভেন্টিলেটর এডজাস্ট ফ্যান রাখুন।

৬। অতিরিক্ত গ্যাস বের করার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারে তাপ দেবেন না।

৭। সিলিন্ডারে ভাল্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেগুলেটর ব্যবহার করুন।

৮। রান্না শেষে চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইচ অবশ্যই বন্ধ করুন।

৯। ঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিন এবং এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন।

১০। গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচের কাঠি জ্বালাবেন না, ইলেক্ট্রিক সুইচ এবং মোবাইল ফোন অন বা অফ করবেন না।

সিলিন্ডারের লিক পরীক্ষার নিয়ম :

সিলিন্ডারের গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না। এই পরীক্ষা করার জন্য পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এই ফেনা রেগুলেটর, হোস পাইপ, ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। যদি কোন স্থানে সাবান পানির ফোঁটা বড় হতে দেখা যায় তাহলে বুঝবেন ওই স্থানে লিক হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। তৎক্ষণাৎ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আসা রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই রান্নার গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহারে পরবর্তী অসতর্কতার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটের জরিপ মতে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আক্রান্তদের মধ্যে বছরে কমপক্ষে ২ হাজার জনের মৃত্যু হয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও কর্মক্ষমতা হারান অনেকেই।

মূল কথা হলো সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যেখানে গ্যাস সিলিন্ডার থাকে, সেই সিলিন্ডার ব্যবহারকারী, গ্যাস কর্তৃপক্ষ, মিডিয়া, সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এবং অবশ্যই মানসম্মত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলাও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আজকের পত্রিকা/মির/জেবি