জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পথে পথে পশুর সারি সারি লাইন। লোকারণ্য পশুর হাট। কেউ বিক্রি করতে আবার কেউ ক্রয় করতে এসেছেন। বড় ছোট বিভিন্ন ক্যাটাগরীর গরুর সমাহার প্রতিটি বাজারে। অনেকে আবার শুধু বাজার দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন। এবার পশু বিক্রির নতুন ধরণে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন ইজারাদাররা। অনলাইনে পশু বিক্রি সহজলভ্য হয়ে ওঠেছে। অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে নিজের পছন্দমত পশু কিনে নিচ্ছেন। প্রতিবারের মতো এবারো গোলাপগঞ্জের এমসি কলেজ মাঠ, ঢাকাদক্ষিণ মাদ্রাসা মাঠ, মীরগঞ্জ মাদ্রসা মাঠ, পুরকায়স্থ বাজার সহ বিভিন্নস্থানে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশুর হাট।

দেশীয় পশুর পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ভারতীয় গরুও আসছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। হাটের যেদিকে চোখ যায় গরু আর গরু। দেশী গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি। গ্রামের মাঠে-ঘাটে পালন করা গরুগুলোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা থাকলেও পশু বিক্রির হার এখনও বাড়েনি। ‘হাটে কোরবানির পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। তবে দাম নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। ঈদের বাকি আর মাত্র ৩দিন। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশু নিয়ে হাটগুলোতে আসছেন বিক্রেতারা। সকাল থেকেই ক্রেতাসমাগম কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। শেষ দিনেও হাট আরো সরগরম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা বিক্রেতাদের। বিক্রেতারা আশা করছেন যতই সময় গড়াবে কোরবানির হাটের পশু বিক্রি ততই বাড়বে।

এদিকে ইজারাদারদের দাবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখিয়ে বাজার থেকে বাহিরে নিয়ে পশু বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা অনুযায়ী পশু পর্যাপ্ত রয়েছে। সেই সাথে বাজারে পশুর দাম অনেকটাই উর্দ্ধে। সচেতন মহলের দাবী যেহেতু এবার দেশে বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে সেহেতু ঈদের আগে পশুর দাম কমতে পারে। পশু বিক্রেতা রিয়াজ আহমদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই ঈদের বাজারে তুলনামূলক ক্রেতা থাকা সত্ত্বেও মনের মত দাম পাচ্ছি না। অপরদিকে কুরবানীর পশু কিনতে আসা আব্দুল আলীমের সাথে কথা বললে জানান, কোরবানির পশু কিনতে এসে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনের হাট দেখে তারপর ক্রয় করব। ঢাকাদক্ষিণ মাদরাসা মাঠে পশু হাটের প্রতিনিধির সাথে কথা বললে জানান, আগের বাজারে চেয়ে এই বাজারে তুলনামূলক কম বিক্রি হচ্ছে। তবে আগামিতে হাট ইনশাআল্লাহ জমে উঠবে।

পুরকায়স্থ বাজার হাটে ইজারাদারের প্রতিনিধির সাথে কথা বললে জানান, বাজারের হাট ইজারায় আনতে যে খরচ হয়েছে তাও উঠবে কিনা সন্দেহ। মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখিয়ে পশু বিক্রি করছে। যা কোনক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। যার জন্য এবার আমাদেরকে ক্ষতি গুনতে হবে।

আজকের পত্রিকা/নোমান মাহফুজ/গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি