গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কমলগঞ্জে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট এর কারনে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক স্বল্পতায় শিক্ষা কার্যত্রম চলছে ধীরগতিতে। শিক্ষক সঙ্কটে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান, পরীক্ষা, খেলাধূলাসহ প্রাথমিক স্তরের রুটিন কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। প্রশাসনিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে।

মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সিলেবাস অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

জানা গেছে- গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কমলগঞ্জ, মুন্সিবাজার ক্লাষ্টার) ৫জন শিক্ষক থাকলেও সহকারি শিক্ষক মুহিবুন্নেছা বেগম ( স্বারক নং- উশিঅ/ কমল/ ৫৯/ ৪৮৩, তারিখ- ০২/১০/২০১৯ইং) গত ০২/ ১০/২০১৯ইং ভারতে ভ্রমন এবং তার স্বামী শাহীন আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার নামে গত ০৪/০৯/ ২০১৯ ইং ছুটিতে থাকায় এবং সহকারী শিক্ষিকা রুমি রাণী রায় গত ১ জানুয়ারী থেকে পিটিআই ট্রেনিং থাকার কারণে ২জন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে অফিস রুমে বসে (পিটিআই ট্রেনিং সংযুক্ত) সহকারী শিক্ষিকা রুমি রাণী রায় এর সাথে গল্প করছেন। অপর শিক্ষিকা লক্ষী রাণী দত্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন।

এই বিদ্যালয়ে ১৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষকের মঞ্জুরীকৃত পদ ৭ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫জন। অভিযোগ উঠেছে- শাহিন আহমদ চৌধুরী গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এর কাছ থেকে চিকিৎসার ছুটি নিয়ে শিক্ষা অফিসকে না জানিয়ে এখন পর্যন্ত বিদেশে (পাসপোর্ট নং- ঊই-০৭১১২০২) (ভারত) অবস্থান করছেন। স্বামী-স্ত্রী একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করায় এবং এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ জোরালো প্রতিবাদ করতে পারছেনা। ফলে শিক্ষার্থীদের যথারীতি পাঠদান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতি এসব বিষয়ে দেখভালের দায়িত্ব থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা হঠাৎ কোন প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন না। সচেতন মহল মনে করেন- শিক্ষার্থীদের বড় অংশ গ্রামে বসবাস করে। শুধু পাঠদানের জন্য স্কুলে আশা যাওয়া, হাজিরা দেয়া বা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করাই যথেষ্ট নয়। মানসম্মত পাঠদানের জন্য শিক্ষকের যে ধরনের দক্ষতা প্রস্তুতি এবং পঠন- পাঠনের নিয়মাবলী অনুশীলন করা প্রয়োজন তার যথেষ্ট ঘাটতি আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত শিক্ষকদের বড় অংশের মধ্যেই রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দেখা গেছে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্ভুলভাবে বাংলা পড়তে বা লিখতে পারে না। এর চাইতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ইংরেজি ও গণিতে বেশ দুর্বল। বস্তুত দেশে বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যে পর্যায়ে রয়েছে তা খুবই হতাশাজনক। অথচ বিদ্যালয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। শিক্ষকরা এখন আগের চাইতে ভালো বেতন পাচ্ছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পোস্টিং নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলিমা বেগম ঘঠনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- সহকারী শিক্ষক শাহিন আহমদ চৌধুরী জঠিল রোগে আক্রান্ত। বিষয়টি মানবিক বিভেচনায় নেয়ার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন- শিক্ষক সংকটের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। সহকারি শিক্ষক মুহিবুন্নেছা বেগম ছুটি নিয়েই ভারতে ভ্রমনে রয়েছেন।

শিক্ষক শাহিন আহমদ চৌধুরী দেশে না বিদেশে নিশ্চিত বলতে পারবনা। তিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- স্বামী-স্ত্রী একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তার স্বামী চিকিৎসা ছুঠি নিয়েছেন। আমি নতুন এসেছি। তাই অনেকটাই বুঝতে সময় লাগবে। বিষয়টি সঠিক হলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।