নির্যাতনের শিকার নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি

বটি দিয়ে গৃহবধুর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

রবিবার সকালে বিচারপতি ইসরাত হাসান গণমাধ্যমের সংবাদ তুলে ধরে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত এ নির্দেশনা দেন।

এসময় নেতাদের কথায় পুলিশ ওঠাবসা করলে আইনের শাসন থাকে না বলে মন্তব্য করেন আদালত। সংবাদ মাধ্যম আসামিকে খুঁজে পেলেও পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পায় না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।

অভিযুক্ত ব্যক্তি উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত ২৫ নভেম্বর রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় একটি মামলা করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-গজাইল গ্রামের মোজাহারের ছেলে মুনসুর (৩৮), বাহের প্রামাণিকের ছেলে আব্দুস সালাম (৪৫), নাসির উদ্দিন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩২)।

ওই নারীর অভিযোগ, ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি তার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের খোঁজে বের হন। পথিমধ্যে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ির পাশে উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার চার সহযোগী ওই নারীর পথরোধ করেন।

সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তারা। এতে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে তাদের সামনে তাকে বিবস্ত্র করে মারপিট করা হয়। পরে কয়েকশ লোকের সামনে বটি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়।