সিনে ম্যাগাজিন সাপ্তাহিক ছায়ালোক এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৯ অক্টোবর শনিবার বিকেলে এফডিসির জহির রায়হান কালারল্যাব ভিআইপি প্রজেকশন হলে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান প্রধান অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মুভি মোগল এ কে এম জাহাঙ্গীর খান, মেজর জেনারেল অব. জীবন কানাই দাস, বিশিষ্ট অভিনেত্রী কোহিনুর আখতার সুচন্দা, মৌসুমী, পরিচালক শহীদুল হক খান, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, চলচ্চিত্র শিল্প সংস্কৃতির একটি অংশ। এক সময় বিনোদন প্রধান এ শিল্পের ঐতিহ্য ছিল। এখন হয়তো মন্দ সময় যাচ্ছে । তবে এর পরিবর্তন হবে। সংস্কৃতিকে লালন করলে জাতি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও একটা ভূমিকা থাকে। ছায়ালোক সেই ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। কিন্তু আজকাল সুষ্ঠুতার বড় অভাব সব ক্ষেত্রে। আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্মান দিতে ভুলে যাই। সিনে ম্যাগাজিন ছায়ালোক পত্রিকাটি আমাদের সেই সম্মানের জায়গাটি তৈরি করে দিয়েছে। ছায়ালোক চলচ্চিত্র বান্ধব একটি পত্রিকা । আমরা চাই পত্রিকাটি আরও দীর্ঘদিন টিকে থাকুক।

নায়িকা মৌসুমী বলেন, ছায়ালোক আমাদের চলচ্চিত্রের অতীত এবং বর্তমান চলচ্চিত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। চলচ্চিত্রের ভালো দিকগুলো মার্জিতভাবে তুলে ধরে। এতে শিল্পী হিসেবে আমাদের সামাজিক মর্যাদা দর্শকের কাছে আরও মোহনীয় হয়ে উঠে। ৭ বছর নয় অনাগত সময় ধরে ছায়ালোক তার আলো ছড়িয়ে দিক আমাদের এই শিল্পে।
ছায়ালোক পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক আবদুল্লাহ জেয়াদ বলেন, আপনার পরিবারের বিনোদন সাপ্তাহিক-এই স্লোগান দিয়ে ২০১১ সনে সিনে ম্যাগাজিন ছায়ালোক এর যাত্রা শুরু হয়। এবার ৮ম বর্ষে পদার্পন করলো এক মলাটে পুরো সিনে ম্যাগাজিন ছায়ালোক। ছায়ালোক বরাবরই অতীত এবং বর্তমান চলচ্চিত্রের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করে। ছায়ালোকের বড় বৈশিষ্ট হলো পত্রিকাটি কখনো কারো চরিত্র হনন করে না। যার যতটুকু প্রাপ্য ততটুকুই সম্মান জানাই। সব সময় গঠনমূলক সংবাদ প্রকাশ করে থাকে।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেয়া হয় বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মুভি মোগল এ কে এম জাহাঙ্গীর খান, অভিনেত্রী কোহিনুর আখতার সুচন্দা, অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), ইলিয়াস কান্চন, নায়িকা মৌসুমী, জ্যেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক রেজা লতিফ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক ও পরিচালক শহিদুল হক খান, বেতার ও টিভি উপস্খাপক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে চার সভাপতিকে বিশেষ সম্মানানা দেয়া হয় তারা হলেন- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু।

এছাড়া বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন মিজানুর রহমান স্বপন পিআর পার্সন জনতা ব্যাংক, আবদুল হামিদ সোহাগ পিআর পার্সন মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লায়ন মিজানুর রহমান, মেজর জেনারেল অব. শাহাবুদ্দিন, মেজর জেনারেল অব. জীবন কানাই দাস। তরুণ পরিচালক শাহ আলম মন্ডল ও তরুণ ফটো সাংবাদিক শাহিনুর ইসলাম এবং প্রথম প্রবর্তিত ফিরোজ এম হাসান স্মৃতি পদক পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ স্থিরচিত্র গ্রাহক নজরুল ইসলাম।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নায়ক ওমর সানী, জনতা ব্যাংকের ডিজিএম মিজানুর রহমান স্বপন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক ছায়ালোক সম্পাদক-প্রকাশক আবদুল্লাহ জেয়াদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। অনুষ্ঠানটি সন্চালনা করেন পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জেমি।