গায়ক লুমিন ও গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদিন। তবে সেটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, ঘাতকের গুলিতে বিদ্ধ হোন তিনি। যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে। এখনো রাজনীতির এই কবিকে শ্রদ্ধায় নত হয়ে স্মরণ করে সমগ্র জাতি। সেই স্মরণে যে যার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধায় স্মরণ । ছবি : সংগৃহীত

বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের শ্রেষ্ঠত্ব স্বরণ করতে পিছিয়ে নেই এদেশের শিল্প সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। গান, কবিতা, নাটক কিংবা চলচ্চিত্র সকল ক্ষেত্রেই তাকে নিয়ে কাজ করেন কবি, লেখক, অভিনেতা, কলাকুশলীরা। এদের মধ্যেই একজন হচ্ছেন গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদে। পেশায় দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও ধ্যানে, জ্ঞানে যিনি এই দেশকে, দেশের মানুষকে, তাদের ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে লিখে যেতে চান।

অবশ্য তাকে গীতিকার লালন আহমেদ না বলে বরং গীতিকবি লালন আহমেদ বলাই অধিক যুতসই হবে। যিনি রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন গান, যা কবিতার মতই সুন্দর। গতবছর আগস্টের এই শোকাবহ মাসেই প্রকাশ দেওয়ান লালন আহমেদ রচিত জনপ্রিয় গান ‘বঙ্গবন্ধু’।

দেওয়ান লালন আহমেদের কথায় লুমিনের কণ্ঠে ‘বঙ্গবন্ধু। ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ সুপার দেওয়ান লালন আহমেদ এর কথায় সাজেদ ফাতেমির অসাধারণ সুরে গানটি গেয়েছেন ফিডব্যাক এর জনপ্রিয় ভোকালিষ্ট লুমিন। পাকিস্তানিদের রক্ত চক্ষু কখনোই টলাতে পারেনি বঙ্গবন্ধুকে। বিশাল বুকে আগলে রেখেছিলেন বাঙালিকে। সংগ্রামী জীবনে কারাগারই ছিলো বঙ্গবন্ধুর ঠিকানা। চলার পথটা সহজ ছিলো না বঙ্গবন্ধু পরিবারের। ছিল হাজারটা বাঁধা। সেই দুঃসময়ের স্মৃতিকাতরতা, রক্তঝরা আগস্টের দিনগুলো এখনো হায়েনার মত তাড়া করে বাঙালিকে। সেই দুঃখ গাঁথা, আবেগি স্মৃতি, সুর হয়ে ফুটে উঠেছে।

নির্মাতা সৈয়দ তানভীর আহমেদ, গায়ক লুমিন ও গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

মহান এই নেতার মৃত্যবার্ষিকীকে সামনে রেখে গতবছরের ১৪ আগস্ট প্রকাশ হয়েছে গানটির মিউজিক ভিডিও। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর, যশোর এবং রাজধানী ধানমন্ডির ৩২ নম্বর-এ অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে চিত্রায়িত হয়েছে এই গানটি।

সংগীত আয়োজন করেছেন জে আর সুমন। মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন সৈয়দ তানভীর আহমেদ। যিনি এর আগে ‘বীরাঙ্গনা’ ও ‘পচিশে মার্চ’ নামে দুই গানের ভিডিও নির্মাণ করে ব্যাপক  প্রশংসা পেয়েছেন। এছাড়া  ডিওপি হিসেবে ছিলেন মাজহারুল রাজু।

গানটির গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ বলেন, ‘বুকের মাঝে ধারণ করি বাংলাদেশ, ধারণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধ, ধারণ করি মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে। সেই প্রত্যয় বুকে নিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ গান।’

উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদের লেখা ও উদ্যোগে এবং   সৈয়দ তানভীর আহমেদের পরিচালনায় ‘বীরাঙ্গনা’ ও মুক্তিযুদ্ধে  পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ নিয়ে ‘পচিশে মার্চ’ নামক দুটি গান নির্মিত হয়, গান দুটি ধ্রব মিউজিক স্টেশনের লেভেলে অনলাইনে রিলিজ হয় যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত  হয়েছে।

সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি পেশার মানুষের চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও তাদের উপলব্ধিকে এই ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে। এ গানের ভিডিওতে মেহেরপুরের মুজিবনগরে একসাথে হাজারো মানুষ মানচিত্রে সামিল হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছে বাতি জ্বালিয়েছেন। এক সাথে গেয়েছে- ‘কাঁদো বাঙালি আজ কাঁদো সবাই/ কান্নাতে পাবে পৃথিবীর সব সুখ/ কোটি মানুষের প্রাণ–স্পন্দনে/ পিতা, তুমিই বাংলার মুখ।’

‘বঙ্গবন্ধু’ গানটি পার্পল ভিশনের ব্যানারে নির্মিত। গানটি জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।

গানটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/