আসাদুজ্জামান স্বপ্ন
সিনিয়র রিপোর্টার

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। আলোকচিত্র : ফটোফাইল

আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটে জেতেনি, তারা গায়েবী ভোটে জয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে নতুন গভর্নমেন্ট তৈরি হবে তা হবে ‘গভর্নমেন্ট অব দি বিজিবি বাই দি র‌্যাব এ্যান্ড ফর দি পুলিশ’।

সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ অতীতে কখনও ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জনগণের ভোটে কখনোও আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়নি। এবারও আওয়ামী লীগের কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি, বরং প্রত্যেক এলাকার উপজেলার ইউএনও-থানার ওসি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরেও যারা বলছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে তারা হয় উৎকোচ গ্রহণ করেছেন, না হলে জ্ঞানপাপী। রিজভী বলেন, নির্বাচনে ডাকাতির মাধ্যমে জনগণকে এরা (আওয়ামী লীগ) ক্রমান্বয়ে উপহাস করছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এখন চাপাবাজি ও গলাবাজির জোরে ভোট জালিয়াতির ঘটনা আড়াল করতে চাচ্ছেন। কিন্তু দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে কিছুই এড়িয়ে যায়নি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের চেয়েও কুৎসিত। তিনি আরো বলেন, ‘গত ২৯ ডিসেম্বর (২০১৮ সাল) দিনগত রাতে মানবশূন্য কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির নির্বোধ উল্লাসে মেতে উঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডাররা। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন গণতন্ত্রের ওপর ধেয়ে এলো মহাদুর্যোগ। এদিন বিশ্ববাসী শঙ্কা নিয়ে দেখলো বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশ কর্তৃক দেশের জনগণের আত্মমর্যাদাবোধে অসম্মানের দৃশ্যটি। তারা দেখলো ভোটাধিকার বঞ্চনার শেষ দৃশ্যটি। রাতের আঁধারে কেন্দ্রে-কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানো।’

বাংলাদেশে আর গণতন্ত্রের গৌরবোজ্জ্বল যুগ সৃষ্টি হলো না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নির্বাচনের পরে মর্মস্পর্শী শ্বাসরোধী ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীতে। সেখানে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে শ্লীলতাহানি করা হয়। আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার মধ্যব্যাগারে ওই সিএনজি চালকের স্ত্রীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে মহিলাটি সবার সামনে ধানের শীষে সিল দেন। এরপর একইদিন রাত ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা পুলিশ পরিচয়ে ওই বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাতভর নির্যাতন করে ঘরের পাশে ফেলে যায়।’ এটি শুধু একজন ব্যক্তিকেই পৈশাচিক নির্যাতনে শ্লীলতাহানি নয়, এটি জনগণের ভোটাধিকারকেই শ্লীলতাহানি করা হলো বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।