মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংঘবদ্ধ গাড়ি চোররা গাড়ি নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ি চোর চক্রের সদস্যরা তাদের চুরির কৌশল বদলে ফেলেছে। চোররা এখন সব গাড়ি চুরি করে না। সুযোগ বুঝে মালিকের গতিবিধির ওপর নজরদারি শেষে চুরির কাজে নেমে পড়ে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংঘবদ্ধ গাড়ি চোররা গাড়ি নিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। পরে কখনো গাড়ির রং বদলে ইঞ্জিন নম্বর টেম্পারিং করে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। আবার কখনো শুধু গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে থাকে এরা।

এছাড়া গাড়ি চুরির পর ফেরত দেওয়ার জন্য মালিকের কাছে মুক্তিপণও দাবি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়ি চোর চক্রের সদস্যরা এখন রীতিমতো গাড়ি চুরির ওপর গবেষণা করছে। এর একটি অংশ হলো গোয়েন্দা নজরদারি চালানো। সিন্ডিকেটের সদস্যরা মার্কেট, শপিংমল, ব্যাংক, বাণিজ্যিক এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেয়। এসব জায়গায় প্রাইভেট কার এসে থামার সঙ্গে সঙ্গেই তারা তৎপর হয়ে ওঠে। গাড়ির চালক বা মালিক কোন দিকে যান, তা গোয়েন্দাদের মতোই অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে তা মোবাইলে জানিয়ে দেওয়া হয় সিন্ডিকেটের অপর সদস্যদের। তারপর তারাই কৌশলে গাড়িটি চুরি করে পালিয়ে যায়। ৩০ মিনিট সময় পেলেই সিন্ডিকেটের যে কোনো সদস্য একটি গাড়ি চুরি করতে সক্ষম বলে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন।

গাড়ি চুরির অপর একটি কৌশল হচ্ছে, অফিস বা স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসায় ব্যবহৃত কিছু প্রাইভেট কারের ওপর বেশ কয়েকদিন ধরে নজরদারি চালানো। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে চালানো হয় অপারেশন। আবার কখনো কখনো সিন্ডিকেটের সদস্যরা চালকদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে গাড়ি ড্রাইভিং শেখার কথা বলে গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যায়। গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গাড়ি চুরি এবং চোরাই গাড়ি বিক্রির কৌশল বদলের কারণে গাড়িচোর সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের যেসব সদস্য অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তারাই আবার নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরি করে এ পেশায় প্রসার ঘটায়।

আপনার গাড়ি হারিয়ে গেলে করণীয়:

১। আপনার গাড়িটি যে জায়গা থেকে চুরি হবে, সেই এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর গাড়ি চুরি যাওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এ জন্য থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে অভিযোগটি দায়ের করতে পারেন।

২। চুরির ঘটনাটি যদি মহানগর এলাকায় হয়, তাহলে আপনি মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কাছেও লিখিত আবেদন করতে পারেন।

৩। অনেক সময় চুরির ঘটনায় আপনাকে এজাহার দায়েরের মাধ্যমে সরাসরি মামলা করতে হতে পারে। অথবা গাড়ি চুরির বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করে রাখতে পারেন। এজাহারে এবং জিডিতে গাড়ির নম্বর, ঘটনার স্থান, ঘটনার সময় উল্লেখ করতে হয়। এজাহারে যদি সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি থাকে, তাহলে তার নাম-ঠিকানাও উল্লেখ করতে পারেন।

৪। অনেক সময় ড্রাইভিংয়ে নিয়োজিত ড্রাইভাররাও গাড়ি চুরি করে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে চালককে যদি সন্দেহ হয়, তাহলে চালকের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। এজাহার করা হলে একজন তদন্ত কর্মকর্তা আপনার মামলাটির দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের স্বার্থে আপনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারেন।

৫। বর্তমান সময়ে ‘ভেইকেল ট্যাকিং’ নামে নতুন ডিজিটাল নামফলক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে গাড়ির সব তথ্য হালনাগাদ করা থাকে। এ নামফলকের সঙ্গে মুঠোফোনের সিমের মতো ছোট একটি ডিভাইস ব্যবহারের ফলে গাড়িটির অবস্থান কোথায় আছে, তা সহজেই বের করা যায়।

৬। গাড়ি চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হলে গাড়ির মালিককে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার জন্য হাজির হতে হয়।

আজকের পত্রিকা/মির/সিফাত