আমি আমার শৈশব থেকে বিভিন্ন ধরনের গামছা দেখেছি। ছবি : সংগৃহীত

বিবি রাসেল একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি মডেল ও ফ্যাশন ডিজাইনার। মডেল হিসেবে ইউরোপে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। টেলিগ্রাফ তার গল্প শুনেছে, তাকে জেনেছে আরও কাছ থেকে। চলুন জেনে নিই দ্য টেলিগ্রাফের চোখে বাংলাদেশের বিবি রাসেলের বর্ণনা ও কাহিনি।

এক ঝাঁক কোঁকড়া চুল। তার ট্রেডমার্ক রিকশা অঙ্কন শিল্প তার ডান পাশের রুপার নাকফুলে শোভা পাচ্ছে। দুই হাতে বাহারি রঙের চুড়ি। তার পরনে ছিল চিরাচরিত বাঙালি ঐতিহ্যের গামছা নকশার শাড়ি। বিবি রাসেলের ফ্যাশন রুচি খুবই স্নিগ্ধ। বিবি তার ফ্যাশনে ‘কুল’ (cool)। সুরুচিসম্পন্ন (ফ্যাশনেবল) ও নকশাকার পোশাকের কাতারে বাংলাদেশের সুতি গামছার শক্ত অবস্থান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশি এই ফ্যাশন ডিজাইনারের কৃতিত্ব রয়েছে।

সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তিনি বালিগঞ্জ শহরে ছিলেন। তিনি আন্তরিকভাবে আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। দ্য লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন থেকে স্নাতক করার সময় জ্যারি হলো এবং ইমানের পছন্দে মডেল হওয়া এই নারী সত্যিকার অর্থে একজন মনে প্রাণে বাঙালি যিনি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন উদযাপন করেন, খালি পায়ে হাঁটতে ভালোবাসেন।

বিবি, নাম …
আমার বাবা আমাকে এই নাম দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে এই নাম নিয়ে আমি খুব রেগে যেতাম। ‘কার বিবি’?! ‘সাহেব বিবি গোলাম’! এগুলো বলে আমাকে খেপাতো। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে আমি বুঝতে পারলাম আমার নাম উচ্চারণ করা কত সহজ।

ঢাকা থেকে লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন…
আমি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঢাকায় বড় হয়েছি। আমার বাবা একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। তখন খুব ছোট ছিলাম যখন আমি তৃপ্তি মিত্র এবং শম্ভু মিত্রের রক্তকরবী দেখেছিলাম। আমি এস ডি বর্মনের বাসায় যেতাম তার গান শোনার জন্য। তিনি আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। আমার বাবা ছাড়া, আমার পরিবার ও বংশের সবাই প্রধানত রাজনীতিতে ছিল। আর শুধু আমরা পাঁচজন ভাইবোন রাজনীতিতে আসিনি। ফ্যাশন নিয়ে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। ১০ বছর বয়সে আমি একটি সেলাই মেশিন পেয়েছিলাম। সবজি বিক্রেতারা লুঙ্গি এবং গামছা পরে আসত। এটা অনেক আকর্ষণীয় ছিল…এতো সুন্দর রঙের সমন্বয়! আমার বয়স যখন ১৩-১৪, আমার বাবা আমাকে একটি চ্যানেল বই দিয়েছিলেন। এটা পড়ে আমি সত্যিই বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাকে ফ্যাশনের ব্যাকরণ জানতে হবে।

১৯৭০ এর দিকে আমার বাবা আমাকে লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনের প্রোসপেক্টাস এনে দিয়েছিলেন। যখন আমি সেখানে গিয়েছিলাম, তারা আমাকে ফিরে যেতে বলেছিল কারণ শিল্প বা ফ্যাশন বিষয়ে আমার ও-লেভেল ছিল না। জুলাই মাসে তারা আমাকে ডেকেছিল এবং বলেছিল যে একজন আমেরিকান মেয়ে সাক্ষাৎকারে বাদ পড়ে গেছে। তাই আমি তার জায়গায় বসতে পারি। সাক্ষাৎকারটি সকাল ১১ টায় ছিল। আমি সকাল ১০ টায় সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

সেক্রেটারি আমাকে বলেছিলেন, আমার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা একদম শূন্য ছিল। কিন্তু আপনি আমাদেরকে অনেক জ্বালিয়েছেন তাই প্রধান শিক্ষক আপনাকে ডাকতে বলেছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে ইংরেজদের হাস্যরসের কটুক্তিক ধারণা রয়েছে, তাই আমি যেন ব্যক্তিগতভাবে কিছু গ্রহণ না করি। প্যানেল আমার নাম জানত। তারা আমাকে বলেছিলেন, ‘তাহলে তুমি সেই মেয়ে!’ আমি অনেকবার তাদের কাছে লিখেছিলাম! তারা আমাকে বাংলাদেশ বানান করতে বলেছিলেন… মৌলিক, প্রাথমিক রঙ,  ত্রিভুজ কী বা বর্গক্ষেত্র কী এসব সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন…আমি কিন্তু উত্তর দিয়েছিলাম। যখন তারা আমাকে প্রযুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল তখন আমি উত্তর দিতে পারিনি।

আমি জিন্সের সাথে একটি টিউনিক পরেছিলাম যা আমি নিজে তৈরি করেছিলাম। একটি স্কার্ফ ও পরেছিলাম, ওইটা ও আমিই তৈরি করেছিলাম। তারা এটা পছন্দ করেছিল। সেক্রেটারি আমাকে বলেন, তারা আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। পরে তারা আমাকে বলেছিল, ‘আমরা এমন কাউকে পাইনি যে কিছুই জানে না, কিন্তু এই কলেজে পড়তে চায়’। তারা আমাকে এক শর্তে নিতে সম্মত হয়েছিল যে আমাকে সন্ধ্যায় ক্লাস করতে হবে। এছাড়াও তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে আমি এর ব্যয়ভার বহন করতে পারব কি না। কারণ এটা ব্যয়বহুল ছিল। আমি বলেছিলাম যে আমি মানিয়ে নিতে পারব।

আমি ছয় মাস ধরে একজন নারী ডাকপিয়ন হিসেবে কাজ করেছি। তারা আমাকে এটাও বলেছিল যে আমি যদি ছয় মাসে ভালো ফলাফল করতে না পারি, তাহলে আমি যেন তাদের সময় নষ্ট না করি। লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন আমাকে চোখ খোলা রাখতে শিখিয়েছে। তারা আমাকে সম্মানিত একটি প্রতিযোগিতায় কলেজের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিয়েছিল এবং পুরো কলেজ আমাকে সাহায্য করেছিল। আমি প্রথম হয়েছিলাম। ওই বৃত্তি আমাকে পড়ালেখার খরচ বহন করতে সাহায্য করেছিল। আমার শিক্ষকরা আমাকে ভালোবাসতেন। তারা আমাকে ইঙ্গিত করে বলতেন, ‘এই যে সূর্যের আলো আসছে’।

অপ্রত্যাশিতভাবে একজন মডেল হয়ে উঠা…
আমার স্নাতকের অনুষ্ঠানের জন্য, আমার শিক্ষক আমার দেখানো শেষ পোশাকটি পরতে বলেছিলেন। তারা বলেছিলেন যে আমি এই পোশাকের অনেকগুলো কৌশলগত দিক গ্রহণ করতে সক্ষম হব। কিন্তু আমি না বলেছিলাম। এমনিতেই আমার বাবা-মাকে শুনতে হয় যে মেয়ে দর্জি হতে গিয়েছে। মডেলিং করা আমার স্বপ্নই ছিল না। আমি ভাগ্যবান যে শীর্ষ ফ্যাশন এজেন্টরা সেখানে ছিল।

আমার প্রথম কাজ ছিল ১৪ পৃষ্ঠার হারপারবাজার। আমি সবসময় বলেছি যে কলেজ আমাকে মৌলিক ব্যাকরণ শিখিয়েছিল এবং তারপরে আমার মডেলিং এবং ভ্রমণ আমাকে পরিপক্ক হতে সাহায্য করেছিল। পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে আমি প্রতিটি জিনিস বিস্তারিতভাবে দেখি। আমি অনেক বছর ধরে মডেলিং করেছি … ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত। আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। আমি গাড়ির অনেকগুলো বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি … জাগুয়ার, বিএমডব্লিউ, রোলস-রয়স। আমার সর্বশেষ মডেলিং ছিল টয়োটা করোনার জন্য।

আমি লন্ডনের বাইরে ছিলাম। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত আমার ভিত্তি ছিল ইতালি। ওইটা একটা ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। মডেলিং আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে, আমাকে সম্মান দিয়েছে, বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাকে শিক্ষা দিয়েছে।

নরমান পার্কিনসন আমার প্রিয় ফটোগ্রাফারদের একজন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার ছিলেন এবং এখন পর্যন্ত। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তারা আমাকে ভালোবাসে কারণ আমার দুটো চোখ দু রকম কথা বলে। যদি কোনো মেয়ে নিখুঁত হয়,  তাহলে সে খুব বিরক্তিকর। মডেলদের তাদের এঙ্গেল সম্পর্কে জানতে হবে। আমি ক্যামেরার সামনে কাজ করেছি। আমি সব এঙ্গেল বুঝতে পারি। ‘ভোগ’ সবসময় বলত যে বিবি’র ‘চিক বোনে’ দুটি কাপ রাখা যাবে। যেই কারণে আমি বিখ্যাত ছিলাম।

ইসসে মিয়া এমন একজন ডিজাইনার, যার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, যিনি বিশ্বব্যাপী মানচিত্রে জাপানি ফ্যাশনকে তুলে ধরেছেন। আমার প্রথম শো ভ্যালেন্তিনোর জন্য ছিল। আমার এক পাশে জ্যেরি হল এবং অন্য পাশে ইমান ছিল। ইমান আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি যেমন তেমন থাক শুধু’।

উন্নয়নের জন্য ফ্যাশন …
প্যারিসে ১৯৯৬ সালে আমার সংগ্রহ নিয়ে আমার প্রথম অনুষ্ঠান হয়েছিল। কিন্তু তার আগে আমার অনেক ফ্যাশন ব্রাদারহুড বন্ধুদের জন্য আমি ডিজাইন করেছি। অনুষ্ঠানটি ইউনেস্কো সমর্থিত ছিল এবং তাদের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অবশ্যই আমি গামছা প্রদর্শন করেছি। আমি আমার প্রথম সংগ্রহ থেকে বাংলাদেশের বুননকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রথম সংগ্রহ থেকে আজ পর্যন্ত, আমি যা করেছি তা সবই হস্তনির্মিত। আমি ঐতিহ্যগত বুননকে পরিবর্তন করিনি। আমি এটাকে সাধারণ রূপ দিয়েছি।

আমি বিভিন্ন ধরনের হাতে বানানো সুতা নিয়ে কাজ করেছি। আমি ১৯৯৬ সালে ফ্যাশন ফর ডেভলপমেন্ট চালু করেছি। ফ্যাশন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও টেকসই উন্নয়ন সহজ করতে পারে এমন ধারণার উপর ভিত্তি করে এটা নির্মাণ হয়েছিল। আজ বিশ্বজুড়ে এটি সবচেয়ে বড় নৈতিক ফ্যাশনের কারণ। আমি অনেক ভালো অনুভব করি এর জন্য। আমি অনেক বছর ধরে এটা করছি। এটা চিরদিনের জন্য আমার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে এবং এটাই একমাত্র জিনিস যা আমি করে থাকি।

যখন আমি সবকিছু ছেড়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন এই স্থানান্তরটি আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমি বিদেশে পড়াশোনা করেছি এবং জার্সি বা শিফন থেকে বের হয়ে কিছু নকশা করা আমার পক্ষে খুব সহজ ছিল। আজ আমি যা করছি তা অনেক গবেষণা এবং চিন্তাভাবনা নিয়ে করছি। কিন্তু এটি খুবই সন্তোষজনক। আমি এখনো অনেক ভুল করছি, কিন্তু এটি এমন কিছু যা আমি করতে চেয়েছি। যখন আমি ফিরে আসি, প্রথম দুই বছর আমি গ্রামে ছিলাম। ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে আমি ফিরে এসেছিলাম। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমার দুই বছর সময় লেগেছিল এবং তারপর আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি যখন ফিরে এসেছি তখন যেন নিজে স্বতঃস্ফূর্ত চলতে পারি তার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে তহবিল সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। আজ পর্যন্ত, আমি যা করেছি তা আমার নিজের টাকা দিয়ে করেছি। টাকা চেয়ে প্রস্তাব লেখার মতো সময় নেই আমার। আমার মানসিক সন্তুষ্টি অমূল্য। আমি আমার অফিস বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট উপার্জন করি।

তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা দেওয়ার ধারণা হচ্ছে, তাদের বলুন, কোনো কিছু এতটা জটিল করো না।

গামছার ‘গ’…
আমি আমার শৈশব থেকে বিভিন্ন ধরনের গামছা দেখেছি। এটা আমার মনে আটকে গিয়েছিল। আমি এর রঙের সমন্বয় দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। বাংলাদেশে গামছা তৈরিকারী তাঁতিরা দারিদ্র্য ছিল এবং গামছা আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। গামছা দিয়ে বানাইনি এমন কিছু নেই। আমি অনেক খুশি যে এখন অনেক লোক গামছা বানাচ্ছেন। শুধু ভারত ও বাংলাদেশেই নয়, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও গামছা অনেক বড় আকার ধারণ করেছে।

গামছা ব্যাপারটা অনেক ‘কুল’ (cool)। আমি গামছা স্কার্ফ দিয়ে শুরু করেছিলাম। এটা ঐতিহ্যের একটি পরিবর্তিত রূপ ছিল। আমার গামছার তৈরি সৃষ্টিগুলো এখনো সবচেয়ে বড় রপ্তানির একটি অংশ। এটা শুরু থেকেই হিট ছিল। স্পেনের রানি সোফিয়া এবং অ্যান্টোনিও ব্যান্ডারাস আমার গামছা স্কার্ফ পরেছেন। ব্যান্ডারাস আমার কাছ থেকে ক্রিসমাস উপহার নেয়। ম্যাডোনা গামছার চুড়ি পরেছে। আমি প্যারিসের লাফায়েত্তে এবং লন্ডনের হ্যারোডস এর গ্যালারিতে গামছা প্রদর্শনী করেছি।

রিকশা শিল্প …
গামছার পরেই যেটা চোখে ভাসত সেটা হলো রিকশা শিল্প। রিকশাও বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ। উন্নয়নের কারণে এখন অনেক রিকশাই তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমি রিকশার এই চিত্র শিল্পকে ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন রূপ দিতে চাই। তারা আমার শ্রেষ্ঠ বিক্রেতাদের মধ্যে এক অংশ। এমনকি তাদের আঁকার প্রয়োজন হয় না। তারা সরাসরি রঙ করে।

বিবি লুক …
আমি হস্তনির্মিত সব কিছু পরি এবং আমি আমার নিজস্ব ভঙ্গিতে পরি। মডেলিংয়ের সময় যেগুলো আমার শখ ছিল, যেগুলো পরতে পারিনি … যেমন নাকফুল… আমি এখন সেগুলো পরি। আমি হাত ভর্তি চুড়ি পরতে ভালোবাসি। আমি সবসময় রূপালি রঙের গহনা পরি।

তেইশ বছর এবং এখনো চলছে …
কেমন করে কেটে গেল, না? আপনি জানেন আমি দিন রাত্রি কাজ করছি এবং এটি কোনো অভিযোগ নয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রেরণামূলক ক্লাস নিই। ক্লাস নেওয়ার সময়টাতে আমি সম্ভবত অনেকগুলো সংগ্রহ এবং অর্থ উপার্জন করতে পারতাম, কিন্তু আমি এটা ছাড়ব না। গুরুত্বপূর্ণ না হলে আমি অনুষ্ঠান করি না। আমি ভারতে অনেক অনুষ্ঠান না করে দিয়েছি। আমি খুব উদাসীন। এটি নির্মাণ করার জন্য আমার অনেক সময় লেগেছে।

সামনে কী আসছে …
আমি হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানাতে কাজ করব, যা খুবই বিস্ময়কর। আমি অনেক ভিন্ন ভিন্ন দেশে কাজ করেছি যেখানে হাতে বুননের ইতিহাস রয়েছে। আমি এশিয়াতে মনোযোগ দিচ্ছিলাম কিন্তু শিগগিরই আবার ইউরোপে কাজ শুরু করব। আমি অনেক পুনর্ব্যবহৃত জিনিস নিয়ে কাজ করব। আমি অনেক টিউনিকস করছি … প্লেইন, ডোরাকাটা এবং চেক। আমি স্ট্রাইপ এবং টাই-ডাই এর ভিন্নতা আর হাতের ক্রচেট নিয়ে কাজ করছি। আমি কলকাতায়ও কাজ করতে চাই।

দৃশ্যের অন্তরালে…
আমি খুব সাদা সিধে ও সহজ সরল জীবন যাপন করি। আমি একটি ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমার ছেলেরা গুগল এবং বিবিসিতে কাজ করে। তারা নিখুঁতভাবে বাংলা কথা বলে। তুমি তিন হাত দূর থেকেই বুঝতে পারবে যে তারা আমার ছেলে।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/আ.স্ব/জেবি