এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

শিল্পী হওয়া তার একমাত্র স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের বীজ বপন করে দিয়েছেন ওস্তাদ জালাল সিদ্দিকী, স্বদেশ দাশ ও স্বরুজ কান্তি দাস। তাদের কাছ থেকে তালিম নিতে গিয়েই মূলত সঙ্গীতের প্রতি আসক্ত হন। কিশোর বয়সে নানা অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন প্রথম কিংবা ২য় স্থান।

কথা হয়, দেশের সঙ্গীতাঙ্গনের উদীয়মান কণ্ঠশিল্পীদের অন্যতম একজন হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নিবেদিত প্রাণ মানিক শাহ্’র সাথে।

গান পরিবেশন করছেন উদীয়মান শিল্পী মানিক শাহ্। ছবি : আজকের পত্রিকা

হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও পারুল বেগমের সন্তান মানিক শাহ্’র গানের জগতে পথচলা ২০০৩ সাল থেকে।

তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সঙ্গীত আমার ধ্যান-জ্ঞান। এর বাইরে অন্য কিছু করার কথা আমি ভাবতেও পারি না। যে কারণে বুকে স্বপ্ন লালন করে হবিগঞ্জ থেকে ছুটে এসেছি ঢাকায়।

উদীয়মান শিল্পী মানিক শাহ্। ছবি : আজকের পত্রিকা

মানিক শাহ্ আজকের পত্রিকাকে আরও বলেন, প্রথমে বুঝিনি, ঢাকায় আগমন আমার জীবনের এক নতুন ইতিহাস রচনা করবে।

বর্তমান সময়ে মানিক শাহ্ সিলেটসহ বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গান পরিবেশন করছেন পাশাপাশি গান ও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

আগে স্কুল-কলেজ, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করতেন, এখনও করেন। ইতোমধ্যে তিনি বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে গান করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত মানিক শাহ্’র প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু মাদ্রাসায়। হবিগঞ্জ দারুসুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসা থেকে সপ্তম শ্রেণি পাশ করে গানের মাঝে আত্মনিয়োগ করেন নিজেকে। ফলে মাঝের অনেকটা সময় পড়াশুনা থেকে দুরে থাকেন তিনি। এরপরও পড়াশুনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। হবিগঞ্জ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন।

শুধু গানই নয়। গানের পাশাপাশি অভিনয়ও করে থাকেন তিনি। ২০০১ সালে মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে তার যাত্রা শুরু। ২০০৩ সালে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য জেলা পর্যায়ে তিনি ১ম স্থান অর্জন করেন।

বর্তমানে ঢাকার শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা মানিক শাহ্ কাজ করছেন স্বরলিপি থিয়েটার নামের একটি থিয়েটারে। মানিক শাহ্ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এর ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তীতে সংগীত পরিবেশন করেন। দেশাত্মকবোধক গানে তিনি হবিগঞ্জ জেলায় ১ম স্থান অর্জন করেন।

ইতোমধ্যে গান পাগল মানিক শাহ্’র অবুঝ পাখি নামে একটি অডিও এবং তরে যদি পাই নামে একটি গানের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে।

গানের ভুবনে প্রবেশের পেছনে কার ভূমিকা বেশি জানতে চাইলে আজকের পত্রিকাকে তিনি তার মা পারুল বেগমের কথা বলেন। মানিক শাহ্ বলেন, ছোটবেলা আমার মা গুনগুন করে গান গাইতেন। আমি তা দেখেই অনুপ্রানিত হই। এ ছাড়াও তার দাদার এক ভাই যিনি বাউল প্রকৃতির ছিলেন। তিনিও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী প্রাণ লোক উৎসবে মানিক শাহ গান পরিবেশন করেন তিনি।

গান পরিবেশন করছেন উদীয়মান শিল্পী মানিক শাহ্। ছবি : আজকের পত্রিকা

উদীয়মান এই শিল্পী স্বপ্ন দেখেন গানের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করবেন।

মানিক শাহ্ আজকের পত্রিকাকে বলেন, গান তার কাছে নেশার মতো। একদম ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ছিলো তার। বুক ভরা স্বপ্ন দেখেন তিনি সঙ্গীত নিয়ে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটে এসেছেন রাজধানী ঢাকায়। নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে তৈরী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি গানের চর্চা করে যাচ্ছেন নিয়মিত।

মানিক শাহ্ আজকের পত্রিকাকে আরও বলেন, গান হচ্ছে তার প্রাণের অন্যতম অংশ। তাই নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চেষ্টা ও পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার কাছে অর্থ নয়, মানুষের ভালবাসাটাই মুখ্য বিষয়।

উদীয়মান শিল্পী মানিক শাহ্’র গাওয়া গানের লিংক :