গাইবান্ধা জেলা কারাগার।

গাইবান্ধা জেলা কারাগার থেকে নিখোঁজ মাদক মামলার আসামি বকুল হোসেনকে ১২ ঘণ্টা পর খুঁজে পেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। ২৫ মে সকাল ৬টার দিকে কারাগারের ভিতরের রান্না ঘরের পিছনের একটি সবজি বাগান থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় বলে দাবি, কারা কর্তৃপক্ষের।

কারাগারে আসামি বকুলের পালিয়ে থাকার কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসক।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আসামি বকুল হোসেনকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মো. মাহাবুবুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আসামি বকুল হোসেন ২৪ মে শুক্রবার বিকেল থেকে কারা পুলিশসহ কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিতরেই অবস্থান করছিলো। বকুল কখনো গাছের উপর, কখনো রান্না ঘর, আবার কখনো সবজির বাগানে লুকিয়ে ছিলো। এ কারণে চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। তবে ঘটনার পর ভোর রাতে সকল বন্দি সেল, হাসপাতাল, টয়লেট, গোসল খানা, রান্নাঘর ও অনান্য কক্ষসহ পুরো কারাগার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে কারা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।

এক পর্যায়ে সকাল ৬টার দিকে রান্না ঘরের পিছনের একটি সবজির বাগানে বকুলকে দেখতে পাওয়া যায়। পরে কারা পুলিশ সদস্যরা বকুলকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাবাসাদ করা হলে বিকেল থেকে বিভিন্নভাবে পালিয়ে থাকার কথা স্বীকার করে বকুল হোসেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘কারাগারের ভিতরে থাকা কোনো আসামি পালানোর সুযোগ নেই। কারাগারের ভিতর ও বাইরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া প্রাচীর দিয়ে উঠে পালানোর মতোও কোনো সুযোগ নেই। আর দীর্ঘ উঁচু প্রাচীর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তা বুঝতে পারবে অন্য আসামিসহ কারা পুলিশ সদস্যরা।

মূলত আসামি বকুল হোসেন একজন মাদকাসক্ত। মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে একমাস ধরে কারাগারে আছে বকুল। এর আগেও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কয়েকবার কারাগারে ছিলো বকুল’।

এদিকে, আসামি বকুল হোসেন কারাগারে পালিয়ে থাকার ঘটনা উদঘাটন এবং এ ঘটনার সঙ্গে কেউ দায়ী আছেন কিনা তা শনাক্ত করতে তিন সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহারকে প্রধান করে তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদসরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি সার্কেল ময়নুল হক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. শাহীদুল ইসলাম। তদন্ত কমটিকে জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে আগামি ৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে’।

আসামি বকুল হোসেনের (৩২) বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। বকুল হোসেন ওই গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে। গোবিন্দগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে এক মাস ধরে জেলা কারাগারে আছেন বকুল। বকুলের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস/জেবি