ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : বাসস

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী আইন ও সম্প্রচার আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

মতামতের জন্য আইন দুটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষায় গণমাধ্যম কর্মী আইন ও সম্প্রচার আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেটিং দিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে দ্রুত ভেটিং দিয়ে দেয়। এরপরই মন্ত্রিসভা হয়ে আইন দুটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবো। তবে আগামীকাল শুরু হওয়া অধিবেশনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। আশা করছি এর পরের অধিবেশনে উপস্থাপন করতে পারবো।’

গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তার জন্য উদ্যোগ নেবেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন যখন হবে তখন চাকরির নিশ্চয়তা থেকে শুরু করে সব কিছুর আইনি সুরক্ষা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনটি দ্রুত সংসদে পাস করতে পারলেই সুরক্ষা তৈরি হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব, ফেসবুক ও গুগলকে শৃঙ্খলায় আনতে যেসব জায়গায় আলোচনা করা প্রয়োজন; সেসব জায়গায় করেছি। এছাড়া শৃঙ্খলায় আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য আইসিটি মন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অনলাইনে পণ্যের বিজ্ঞাপনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব, ফেসবুক ও গুগলে দেশের অনেক পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে। এগুলো থেকে কোনও রাজস্ব পাওয়া যায় না। তাই এগুলোর বিজ্ঞাপনকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারতে এরকম বিশৃঙ্খল অবস্থা নেই। সেখানে ইউটিউব, ফেসবুককে নিবন্ধন করতে হয়। তাই আমরাও যেন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত না হই এবং সব বিজ্ঞাপন যেন ওসব মাধ্যমে না চলে যায়, সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে সম্প্রচারের জন্য যে ডাউনলিংক ফি রয়েছে, এটা খুবই কম। বাংলাদেশি চ্যানেল অন্যান্য দেশে সম্প্রচারের জন্য ডাউনলিংক ফি দেওয়া লাগে পাঁচ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের ডাউনলিংক ফি মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। তাই দেশে ডাউনলিংক ফি বাড়িয়ে সমতা আনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক।’ এ নিয়ে আলোচনা করে পরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ।

আজকের পত্রিকা/মন্ত্রণালয়/আ.স্ব