প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানসিক ভারসমস্যহীন পুরুষ মহিলাদের গণপিটুনী দিয়ে থানায় সোপর্দ করে স্থানীয় জনতারা। ছবি: সংগৃহীত

কিছুদিন আগে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ধরা রোহিঙ্গা আতঙ্ক বিরাজ করেছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা ও মাইকিং করা হয় শহর থেকে গ্রামঞ্চলে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনার পর একযোগে আটটি থানার অফিসারগণ নেমে পড়েন গণসচেতনতায়।

তবে প্রশাসনের গুজব কথাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন পুরুষ মহিলাদের গণপিটুনী দিয়ে থানায় সোপর্দ করে স্থানীয় জনতারা। ছেলেধরা রোহিঙ্গা আতঙ্ক এতটাই প্রকট আকার ধারণ করে যে, শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঘর থেকেই বের হওয়া বন্ধ করে দেয়।

এদিকে, গণপিটুনী দিয়ে যাদের বিভিন্ন থানায় সোপর্দ করা হয় তারা সকলেই মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানায় পুলিশ। বর্তমানে ১৬-১৮ জন মানসিক ভারসাম্যহীন পুরুষ ও নারী যারা গণপিটুনীর শিকার হয়ে থানা হেফাজতে ছিলেন। থানা থেকে তাদের পাঠানো হয় আদালতে। আদালত তাদের সকলকেই পাঠিয়ে দেন সাতক্ষীরা কারাগারে। মানসিক ভারসাম্যহীন এসব মানুষদের নিয়ে বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষ পড়েছেন বিপাকে। তবে এসব মস্তিষ্ক বিকৃত মানুষদের সুস্থ স্বাভাবিক করে তোলার জন্যও কারা কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক।

সাতক্ষীরা কারাগারের জেলার তুহিন বলেন, কিছুদিন আগে ছেলেধরা ও রোহিঙ্গা আতঙ্কের পর জনগণ গণপিটুনী দিয়ে যাদের থানায় সোপর্দ করেছেন তারা সকলেই এখন সাতক্ষীরা কারাগারে। ১৬-১৮ জন নারী ও পুরুষ রয়েছেন। পুরুষদের কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আর নারীরা রয়েছেন মহিলা কারা ওয়ার্ডে। তারা পাগল কিনা সেটি ডাক্তারই বলতে পারবেন। তবে ধারণা করা যায় এসব মানুষগুলো সকলেই মস্তিষ্ক বিকৃত।

এসব মানসিক ভারসাম্যহীনদের কারাগারে কিভাবে তত্ত্বাবধায়ন করছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারাগারে অন্তরীণ সকলের সঙ্গেই ভালো ব্যবহার করা হয়। তাদের সঙ্গেও স্বাভাবিক আচরণ করেন কারাগারের অন্যান্য দায়িত্বরতরা। তবে তাদের আচরণ অনেকটা অস্বাভাবিক। আদালত থেকে তাদের জামিন ধরার মতো কেউ নেই বা বর্তমান সময় পর্যন্ত কেউ কোনো জামিনের কাগজপত্রে স্বাক্ষরও নেয়নি।
তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এসব মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলোকে আদালত থেকে জামিন ধরার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আদালত জামিন দিলে তাদের মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আন্তরিক ও সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা ও রোহিঙ্গা আতঙ্ক এতটাই প্রকট আকার ধারণ করে যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে গুজব বলে মাইকিং গণসচেতনা প্রচারণা করলেও প্রথম দিকে এটিকে থামানো যায়নি। ছেলেধরা রোহিঙ্গা ভেবে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে শুরু করে। পরে যাচাই করে দেখা যায় তারা সকলেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

ওসি আরও বলেন, জনগণের দ্বারা আটককৃত এসব মানুষগুলোকে নিরাপদে থাকার জন্য আদালতে পাঠানো হয়। আদালত সার্বিক বিবেচনায় তাদের কারাগারে পাঠায়ে দেন। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন নিরাপদে।

আজকের পত্রিকা/আকরামুল ইসলাম/সাতক্ষীরা প্রতিনিধি/এআরকে