খানসামায় ভুট্টা চাষ

দিনাজপুরের খানসামায় কৃষকদের কাছে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার অনেক কৃষক ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। শহরের জমি থেকে দলার জমিতেও কৃষকরা ভুট্টা চাষ করছেন। উপজেলার কৃষক এ সময় ভুট্টা ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ভুট্টা চাষে সকল আবাদের চেয়ে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি।

অন্যান্য আবাদের তুলনায় ভুট্টা চাষে সার কীটনাশক, সেচ ও কামলা খরচ কম প্রয়োজন হয়। ভুট্টার মোচা পরিপক্কতা আসার পর পরই ক্ষেতেই কাঁচা বা শুকনা মাড়াই ও বিক্রি করা যায়। কোনো ফসল ভুট্টার মতো বিক্রি করা যায় না। উপজেলাটিতে মাড়াই ও ভালো দামে বিক্রি করাসহ নানা সুযোগ সুবিধা থাকায় দিনের পর দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলাটিতে কৃষকের বিভিন্ন মৌসুমের আবাদের ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে নিতে ভুট্টা চাষ খানসামায় এসেছে আর্শিবাদ হয়ে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর তথ্যমতে এবারের ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৬ শত হেক্টর অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৯ শত হেক্টর। এখনও ভুট্টা অনেকেই রোপণ করছে। অর্জন কিছুদিনে আরো অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে চোখে পড়ে দিগন্ত জুড়ে সবুজ ভুট্টা ক্ষেত আর ক্ষেত। শহরের জমি উপজেলার দোলার জমিগুলোতে বোরো ধানের পরিবর্তে অনেকাংশে ভুট্টা চাষ করেছেন। যেসব ধানের জমিতে গত বছরও বোরো ধানে পরিপূর্ণ ছিল, সে জমিগুলোতে এ বছর ভুট্টা ক্ষেত আর ভুট্টা ক্ষেত। খামার পাড়া ইউপির খামারপাড়া গ্রামের কৃষক আলতাফ, হাফিজ জানান, জমি চাষ দিয়ে ভুট্টা রোপণ করার পর আর তেমন কাজ নেই।

এ এলাকায় ধান আবাদে পাঁচ থেকে আটটি সেচ প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভুট্টায় দুই বা তিন বার সেচ দিলেই ক্ষেত উঠে যায় । সার কীটনাশক, সেচ ধানের তুলনায় অনেক কম লাগে। তাছাড়া ভুট্টার ফলন বেশি পরিশ্রম কম। ধানের তুলনায় ভুট্টায় লাভ বেশি এবং ভূট্টার চাহিদাও অনেক বেশি।

আঙ্গার পাড়া ইউপির মজিবর নামে পাকেরহাট গ্রামের আরেক কৃষক জানায় ভুট্টার মোচা থেকে শুরু করে গাছ পর্যন্ত সংসারে জ্বালানির কাজে ব্যবহার করা হয়। ভুট্টার কোনো অংশই নষ্ট হয় না। ভেড়ভেড়ি ইউপির টাঙ্গুয়া গ্রামের রশিদুল জানায়, এ অঞ্চলে শহরি জমিগুলোতে বেগুন আলু সরিষা উত্তোলনের পর পরই অনেকে ভুট্টা চাষাবাদ শুরু করছে।

এ অঞ্চলে মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষে অত্যন্ত উপযোগী জানায় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আফজাল হোসেন। কৃষক সচেতন হয়েছে ভুট্টা চাষে। কৃষকরা উপজেলাটিতে প্রতিবছর ভুট্টার ভালো দাম পেয়ে আসছে। তাছাড়া চাহিদাও অনেক। আমরা ভুট্টার বিভিন্ন হাইব্রিট জাত সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করেছি।

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী/খানসামা