বিয়ের মাত্র চার মাস পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আসামি সোহেল রানার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় নিহত হাসি আক্তারের। বিচ্ছেদের পরেই স্বামী সোহেল রানা হাসিকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করত ও টাকা দাবি করত। টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাসি আক্তারকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে সোহেল। নিউরোলজী সায়েন্সের আইসিওতে লাইফ সাপোর্টে থাকা ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে মারা যান হাসি আক্তার। হত্যার পাঁচ মাস পর আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পার্কের সামনে থেকে মো. সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব) ৪ এর সদস্যরা।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এসব কথা জানানা র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, বিয়ের চার মাস পর বিবাহ বিচ্ছেদ হয় সোহেল রানা ও নিহত হাসি আক্তারের। স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরে হাসি মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপরেও বেঁচে থাকার তাগিদে সে একটি এনজিওতে চাকুরি নিয়ে আমীন বাজার শিবপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকে। এসময় আসামী সোহেল হাসিকে তার অফিসে আসা-যাওয়ার পথে এবং ভাড়া বাসায় গিয়ে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করাসহ টাকা দাবি করে। পথে ঘাটে উত্যক্ত না করাসহ সোহেলকে তার বাসায় যেতে নিষেধ করে হাসি। কিন্তু সোহেল হাসির কথায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আরও বেশি করে উত্যক্ত করতে থাকে। সোহেলকে কোনও টাকা দিবেনা বলে ষ্পষ্ট জানালে সোহেল আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং হাসিকে হত্যার হুমকি দেয়।

র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, একপর্যায়ে গত পহেলা মে হাসির অফিস বন্ধ থাকায় সকাল সাড়ে ৮টায় হাসির ভাড়া বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং তার কাছে টাকা দাবি করে। হাসি আক্তার সোহেল’কে টাকা পয়সা দিতে অস্বীকার করলে হাসিকে এলোপাথারিভাবে চড়, থাপ্পর, কিল ও ঘুসি মারতে থাকে। চোখে এবং মাথার এক পাশে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। সোহেল হাসির চুল ধরে ফ্লোরের টাইলসের সাথে উপর্যুপরি মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং সবশেষে খাটের নিচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্বক থেতলানো রক্তাক্ত জখম করে। হাসির মৃত্যু হয়েছে ভেবে সোহেল আলমারীর ড্রয়ার থেক তিন ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট দেড় লাখ টাকার মালামাল নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

মোজ্জামেল হক আরও বলেন, বাড়ির মালিক হাসিকে র*ক্তাক্ত জ*খম ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতলে নিয়ে ভর্তি করলে নিউরোলজী সায়েন্সের আইসিওতে লাইফ সাপোর্টে ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৭ মে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।

হাসির মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা হওয়ার পরে আসামি এবং তার পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পারিপার্শ্বিক অবস্থাসহ সার্বিক বিবেচনায় র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে প্রধান পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

আজকের পত্রিকা/আরকে