নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী পুলিশ নিয়ে পার্কে অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ নিয়ে পার্কে অভিযান চালিয়ে এক ঝাঁক ক্লাস পলাতক তরুণ-তরুণীকে করিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। ১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর পৌর পার্কে এ অভিযান চালান তিনি। স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে নোয়াখালী পৌর পার্কে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় এই তরুণ-তরুণী ও প্রেমিক যুগলদের আটক করা হয়। পরে পার্কে আর আসবে না- এ রকম মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে একটি পোস্ট দেন সাংসদ একরামুল করিম। সাংসদের ওই পোস্টে লাইকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে সাড়ে তিন হাজারের অধিক। সেই সঙ্গে মন্তব্য করেছেন প্রায় আড়াই হাজারের অধিক মানুষ।

ওই পোস্টে একরামুল করিম ক্লাস পলাতক ওইসব শিক্ষার্থীদের হুশিয়ারি দিয়ে এবং তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে লেখেন, ‘অভিভাবকদের বলছি, আপনার সন্তানের খোঁজখবর নিন। স্কুল-কলেজ চলাকালীন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পার্কে ঘোরাঘুরি করছে কিনা খবর নিন। কোথায় যাচ্ছে, লেখাপড়া করছে কিনা খেয়াল রাখুন। স্পষ্টভাবে বলছি, স্কুল-কলেজ চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থী পার্কে ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে শাস্তি দেবে। আজ স্কুল-কলেজ চলাকালীন পার্কে শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিচ্ছে দেখে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। আমি পুলিশকে বলেছি, তাদের অভিভাবকরা থানায় এলে তাদের দায়িত্বে সতর্ক করে ছেড়ে দেবেন। আশা করি এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না হোক।’

এদিকে পার্কে এমন অভিযান চালিয়ে তরুণ-তরুণীদের আটক এবং তাদের ছবি প্রকাশ করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই সাংসদের এমন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিচ্ছেন। অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়ছেন- ‘পার্কে প্রেমিক যুগল ধরা কি কোনো সংসদ সদস্যর কাজ?’

জিয়া হাশান নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পার্কে বইসা প্রেম করার চাইতে প্রেমিকযুগলরে কান ধরে উঠবস করানো অধিক অশ্লীল।’  শাতিল আহমেদ নামের আরেকজন লিখেছেন, “ক্লাসরুমে মূর্খ মাস্টারগুলা যে মুখস্থ ‘গাইনের গীত’ প্রতিদিন একইভাবে ভ্যানরভ্যানর করে শোনায়, এইসব শোনার চাইতে পার্কে প্রেম করুক ছেলেমেয়েরা। এতে জীবন আরো ঘনিষ্ঠভাবে জানবে। এদের চোখে অন্তত সুন্দর কিছুর স্বপ্ন থাকবে। হতাশাগ্রস্ত মাস্টরগুলোর চাইতে প্রেমিক তার প্রেমিকাকে, প্রেমিকা তার প্রেমিককে অন্তত স্বপ্ন দেখাটা শেখাতে পারবে। পার্কগুলো প্রেমিক-প্রেমিকাদের কলহাস্যে মুখর হোক। কিশোর-কিশোরীরা, তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে হাসতে হাসতে ঢলে পড়ুক। সুন্দর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ কল্পনা নিয়ে এরা খুনসুটিতে মাতুক। এর চাইতে সুন্দর দৃশ্য আর কী হতে পারে! প্রকাশ্য খুনোখুনির চাইতে প্রকাশ্য চুম্বন শ্রেয়। ভিড়ের সুযোগে গায়ে হাত দেয়া ধর্ষকামীদের নোংরা দৃষ্টির চাইতে প্রেমিকদের প্রগাঢ় আলিঙ্গন অনেক মধুর।”

এছাড়া অনেকেই পার্ক থেকে আটক তরুণ-তরুণীর ছবি এভাবে প্রকাশ করাতে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। নীতিগতভাবে একজন সাংসদ এই কাজ করতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নও করছেন কেউ কেউ। এভাবে ছবি প্রকাশ করাতে নির্মাতা ও লেখক রেজা ঘটক লিখেছেন, ‘ছেলেমেয়েদের ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে আপনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এখনই মানহানির মামলা করা যায় আপনার নামে।’

উল্লেখ্য, সাংসদ একরামুক করিম চৌধুরী শাবাব চৌধুরী নামের এক তরুণের পিতা, যার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে গাড়িচাপা দিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত