আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

চারদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাসে ফিরছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২৭ মার্চ বুধবার শিক্ষার্থীদের এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থী ঘোরি মো. ওয়াসিম আব্বাসকে মৌলভীবাজারের শেরপুরে ভাড়া নিযে কথা কাটাকাটির জেরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ‘হত্যার’ প্রতিবাদে রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন সিকৃবি শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট অবরোধ করেন তারা। ওইদিন পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে তুলে নেয়া হয় অবরোধ। দেয়া হয় তিনদিনের আলটিমেটাম। সেই আলটিমেটাম শেষ হয় আজ বুধবার।

এ দিন সকালে সিকৃবির টিএসসি চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে টিলাগড়স্থ মাদানী ঈদগাহ পয়েন্টে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

২৭ মার্চ বিকেলে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকালে সিকৃবির বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ঘোরি মো. ওয়াসিম আব্বাসসহ ১১ শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী উদার পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ভ-১৪-১২৮০) ওঠেছিলেন। তারা হবিগঞ্জের নবীনগরের দেবপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওই বাসযোগে তারা শেরপুর আসেন।

অভিযোগ ওঠেছে, ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে শেরপুরে ওয়াসিমকে হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে চালক দ্রুত বাসটি চালিয়ে দেন ওয়াসিমের ওপর দিয়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে রিমাণ্ডে নিয়েছে। সিকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আসামি করে মামলা করেছেন।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস