ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে ইন্সট্যান্ট ঋণ নেওয়ার মাধ্যম। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাশ টাকার দিন প্রায় শেষ। উন্নত অনেক দেশে ইতোমধ্যে কাগজের নোট কিংবা পয়সার ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। কাগজের নোটের এই অবস্থানটি দখল করে নিচ্ছে ক্রেডিট কার্ড কিংবা ডেবিট কার্ড। ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে কমবেশি সবাই শুনে থাকেন।

ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আমরা যে কোনো দোকান অথবা শপিংমলের থেকে জামাকাপড় কিনতে পারি। যখন আমাদের কেনাকাটা করার জন্য হাতে নগদ অর্থ থাকে না, বা কম পড়ে- তখন আমরা সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে পারি। কিন্তু এই কার্ডটি খোলার আগে আপনাদের এই কার্ডটির সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আসুন আজকের এই লেখা থেকে জেনে নেওয়া যাক ক্রেডিট কার্ড কী এবং ক্রেডিট কার্ডের সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

ক্রেডিট কার্ড কী?

ক্রেডিট কার্ড হলো কোনো ব্যাংকের দ্বারা দেওয়া সুবিধা বা লোন, যার অধীনে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনাকাটা এবং কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করতে পারেন এই কার্ডের সাহায্যে। তারপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে ব্যাংকে ওই খরচের পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।

আকৃতিগতভাবে ক্রেডিট কার্ড হলোগ্রাম ও নিরাপত্তা চিহ্ন সম্বলিত একটি প্লাস্টিকের শক্ত আবরণের টুকরা। এর পেছনে একটি চৌম্বক ফিতার দাড়ও আছে। কার্ডধারীর বিস্তারিত তথ্যসহ ফিতাটিতে বৈদ্যুতিক ডাটা সংরক্ষিত থাকে। কার্ডটি চতুর্ভুজাকৃতি, দেখতে কিছুটা ফোন কার্ডের মতো। এটি প্লাস্টিকের তথ্যমূলক ছোট টুকরা, এ জন্য এটিকে আপনি জনপ্রিয় প্লাস্টিক মুদ্রাও বলতে পারেন। ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে লেনদেন কিছুটা প্রচলিত লেনদেনের মতো। ব্যাংক গ্রাহকের নামে একটি কার্ড প্রদান করে, যা তাকে মালামাল ও সেবার মূল্য সীমিত শর্তের মাধ্যমে পরিশোধ করতে সমর্থ করে।

ক্রেডিট কার্ড যেভাবে কাজ করে

যখন আপনি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিছু কিনবেন, তখন তার অর্থ পরে প্রদান করতে হবে। যা পরে আপনার ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেবে। কিন্তু আপনি যদি আপনার সামর্থ্যর চেয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বেশি কেনাকাটা করে ফেলেন, তাহলে তা বিপদজনক হতে পারে। যদি আপনি ব্যাংককে প্রতি মাসে আপনার বিল পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে জরিমানা এবং অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা দিতে একেক ব্যাংক একেক রকম অফার দিয়ে থাকে। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের অসুবিধাও রয়েছে, তাই ক্রেডিট কার্ড খোলার আগে এর অসুবিধাগুলো জেনে নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি আপনি আদৌ কার্ডটি খুলবেন কিনা।

ঋণের ফাঁদ

ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে ইন্সট্যান্ট ঋণ নেওয়ার মাধ্যম। আপনি এখন কোনো পণ্য ঋণ করে কিনলে, পরে অর্থ পরিশোধ করতেই হবে। ফলে একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। আপনি সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করলে ঋণ বাড়তেই থাকবে।

লুকায়িত ব্যয়

সুদের হার পরিশোধই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের একমাত্র ব্যয় নয়। সময়মতো মাসিক মূল্য পরিশোধ না করলে আপনাকে জরিমানা গুণতে হতে পারে। ক্রেডিটে যে ব্যবহারের সীমা থাকে, সেটা অতিক্রম করলেও একটা নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ, সময়জ্ঞান না থাকলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেশ বিপজ্জনক। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তুলতে এর জন্য নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হতে পারে।

সঠিক কার্ডটি চেনা

আপনার জন্য যা সুবিধাজনক, সে রকম সঠিক কার্ডটি বেছে নেওয়া জরুরি। একটি ভুল কার্ড দিনের পর দিন ব্যবহার করলে ঋণের বোঝা কেবল বাড়তেই থাকবে। তবে এটা বুঝতে পুরো শর্তাবলি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কোনটা নিজের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বেছে নিতে হবে।

কার্ড খোলার পূর্বশর্ত

সাধারণত ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী বা অন্য পেশাজীবী, যাদের আয় আছে এবং বৈধ টিন (ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর) আছে, তারা ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত গ্রাহকের মাসিক আয়ের ভিত্তিতে কার্ডের সীমা নির্ধারণ করে থাকে।

সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ১৫০০০ টাকা। ক্রেডিট লিমিট আপনার মাসিক বেতনের দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো রকম জামানত ছাড়া একটি ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বা টাকা খরচ করার সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না।

ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে সাধারণত আপনি যেখানে কাজ করছেন, সেখানে অন্তত ৬ মাস ধরে আছেন এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত একজন ব্যক্তির আর্থিক সচ্ছলতা এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে এ কার্ড সরবরাহ করে থাকে। এ কারণে ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্রেডিট লিমিট হয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের। কার্ডহোল্ডার তাকে দেওয়া লিমিট অনুযায়ী বাকিতে নির্ধারিত অঙ্কের কেনাকাটা করতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সে টাকা ব্যাংককে পরিশোধ করার সুযোগ থাকে। এই মেয়াদ সাধারণত ১৫ দিন থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত /জেবি