ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে আসাটা নতুন কিছু নয়। ভারতের মনসুর আলী খান পাতৌদি থেকে শুরু করে শ্রীলংকার সনাথ জয়াসুরিয়া, পাকিস্তানের ইমরান খান, ভারতের নবজ্যোত সিধু- অনেকেই এসেছেন রাজনীতিতে। এদের মধ্যে সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হয়েছেন সবচেয়ে সফল। ২৩ বছর রাজনীতি করার পর প্রধানমন্ত্রীত্ব পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে একেবারে পিছিয়ে নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আলোচনা-সমালোচনার ভিড়ে অনেকেই ভুলে গেছেন মাশরাফির আগেই আরও একজন সাবেক ক্রিকেটার সংসদ সদস্য হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন সুনামধারী খেলোয়াড়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য। এছাড়া উপমহাদেশে আরো অনেক ক্রিকেটারই খেলার মাঠের মতো রাজনীতির মাঠও কাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন বা এখনো বেড়াচ্ছেন।

নবজ্যোত সিং সিধু : সিধু সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি ছোট পর্দার জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮৩ সালে ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ১৯ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ২০০৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে অম্রিতসার থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

বিনোদ কাম্বালি : কাম্বলি ভারতের সাবেক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তিনি ভারতীয় লোক পার্টিতে যোগ দেন এবং পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। যদিও ২০০৯ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

মনসুর আলী খান পাতৌদি : ভারতের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক পতৌদির এই শেষ নবাব। তার সময়ের সেরা ফিল্ডার এবং ভারতের সেরা অধিনায়ক হিসেবে খ্যাতি তার। তিনি ভোপাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সনাথ জয়সুরিয়া : শ্রীলংকার সাবেক ব্যাটসম্যান সনাথ জয়সুরিয়া। শ্রীলঙ্কার সব সময়ের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি অন্যতম। জয়সুরিয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার চলমান থাকা অবস্থাতেই সক্রিয় রাজনীতি করেন। ২০১০ সালে মাতারা জেলা থেকে তিনি রাজনীতি শুরু করেন। মাহেন্দ্র রাজাপাকসের ইউপিএফএ সরকারের হয়ে ডেপুটি মিনিস্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন এ খ্যাতিমান ক্রিকেটার।

ইমরান খান : পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল ‘তেহরিক ই ইনসাফ’। দীর্ঘ ২৩ বছর রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ লাভ করেন।

নাইমুর রহমান দুর্জয় : বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। ২০১৪ সালে তিনি প্রথম মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে জয়লাভ করেছেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান ওয়ান ডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সনাথ জয়াসুরিয়ার মতোই ক্রিকেট ক্যারিয়ার চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •