জীবনের ২০ বছর মানুষের হাতে হাতে সংবাদপত্র পৌঁছে দিয়েছেন। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি বা কনকনে শীতেও পাঠকের কাছে সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়া ছিল তার দিনের প্রথম কাজ।

কিন্ত পত্রিকা হাতে নিয়ে গত পাঁচ মাস পাঠকের কাছে যেতে পারেন না লক্ষ্মীপুরের পত্রিকা বিক্রিয় প্রতিনিধি (হকার) মো. শাহজাহান।

দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখন বিছানা তার সঙ্গী। লাঠি ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। আর এখন তার সর্বোচ্চ যাতায়াত বাড়ির সামনের চায়ের দোকান পর্যন্ত। টাকার অভাবে চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছে না, কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন যাপন। এ খবর পেয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন দৈনিক আমাদের লক্ষ্মীপুর পরিবার।

১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে তাকে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন দৈনিক আমাদের লক্ষ্মীপুর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ বায়েজীদ ভূঁইয়া।

এসময় হকার শাহজাহানের ৮ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া মেয়ে শারমিন আক্তার প্রীতির পড়ালেখার খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরে দালালবাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে ভর্তি, স্কুল ড্রেস ও পড়ালেখার সকল দায়দায়িত্ব বহন করেন।

ক্যান্সার আক্রান্ত শাহজাহান পৌরসভার পশ্চিম ল²ীপুর এলাকার মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে। তিনি ল²ীপুরের গোলাম রহমান পত্রিকা এজেন্টের হয়ে ২০ বছর পত্রিকা বিক্রি করেছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে তার।
দৈনিক আমাদের লক্ষ্মীপুর-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ বায়েজীদ ভূঁইয়া বলেন, যার মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই পত্রিকা হাতে পাই। অথচ তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। তার অসুস্থ্যতার খবরটি জানার পরই তার বাড়িতে যান। তাদের আর্থিক দুর্দশা দেখে তাৎক্ষণিক শাহজাহানের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার বগ মেয়ে প্রীতির পড়ালেখার সকল খরচ বহন করাা হবে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে শাহজাহানের স্ত্রী লাকি আক্তার জানান, তার স্বামী শাহজাহানের লিভারের পাশে ক্যান্সারের ভাইরাস হয়েছে।

পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করাতে বলেছেন চিকিৎসক। কিন্তু টাকার অভাবে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে প্রতি রাতে লিভারের ব্যাথায় শাহজাহান কষ্টে ঘুমাতে পারেন না। চিৎকারের কারনে আশপাশের মানুষের সমস্যা হয়।

-মোঃ সোহেল রানা