পরকীয়া প্রেমিক ও নাহার।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্বামীর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে রাজমিস্ত্রী প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে ২ সন্তানের এক জননী। গত সোমবার উপজেলার ভূজপুর থানাধীন হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ভূজপুর থানায় আইনী সহায়তা চেয়েছেন বলে জানান স্বামী হাসান আলী টিপু।

প্রেমিক তহিদুল আলম বাবলু (২৭) একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড টিলাপাড়া কামাল মাষ্টার বাড়ীর ফজল হকের ছেলে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

অভিযুক্ত গৃহবধূর জিন্নাতুন নাহার (২৫) হারুয়ালছড়ি রাবার ড্যাম নুরুল আলম মেম্বার বাড়ীর হাসান আলী টিপুর স্ত্রী। বিগত ৬ বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের আলী আহমদ কেরানী বাড়ীর আমিনুল হকের মেয়ে জিন্নাতুন নাহারের সঙ্গে

মিনহাজুল কোরান গাউছিয়া মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক হাসান আলী টিপুর বিয়ে হয়। তাদের ঘরে খাতুনে জান্নান আদিবা (৫) নামে একটা কন্যা সন্তান ও রবিউল হাসান আবির নামে আড়াই বছরের একটা পুত্র সন্তান রয়েছে।

স্বামী হাসান আলী টিপু জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী নিষ্পাপ ২ সন্তানকে রেখে গেলেও সঙ্গে নিয়ে গেছেন ৫ ভরি স্বর্নালংকার, কাপড়-ছোপড়সহ নগদ ৭০ হাজার টাকা। তার প্রেমিক এক রাজমিস্ত্রি।

তিনি আরো জানান, বিয়ের আগে থেকে ঐ রাজমিস্ত্রীর সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক থাকলেও তিনি তা জানতেন না। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় তার সন্দেহ হলে তিনি তার স্ত্রীকে বুজিয়ে এসব থেকে বিরত থাকতে বলেন।

এই নিয়ে দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর আগেও একবার তার স্ত্রী ঐ ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে ২দিন পর এসেছিল।

এ ব্যাপারটা সামাজিক বৈঠকে মিমাংসা করা হয়। তিনি জানান, তার শাশুড়ী নুর নাহার বেগমের ইন্ধনে এরপর ও ঐ ছেলের দেয়া মোবাইলে কথা বলাসহ প্রায় সময় তার সাথে গোপনে দেখা করেন তার স্ত্রী। এমনকি নারী নির্যাতন মামলা ও আত্বহত্যাসহ তাকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁঁসানোর হুমকীও দেন তার স্ত্রী জিন্নাতুন নাহার।

এক সময় উভয়ের বনিবনা না হওয়ায় পুত্র সন্তানকে বাড়ীতে রেখে কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ী চলে যায় তার স্ত্রী।

সর্বশেষ গত সোমবার সকালে আনুমানিক সাড়ে ৮টায় শশুর বাড়ী থেকে রাজমিস্ত্রী প্রেমিক তহিদুল আলম বাবলুর সাথে পালিয়ে যায় তার স্ত্রী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বামী হাসান আলী টিপু ফোনে বলেছে তার স্ত্রী নাকি পালিয়ে গেছে, তবে কার সাথে গেছে সেটা আমি জানিনা। বাচ্চা ২টা আছে এটাও ঠিক।

তিনি আরো বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে কোন্দল ছিল। আমরা চেয়েছিলাম তাদের যে প্রবলেম আছে সেটা সমাধান করে সংসার ঠিক রাখার জন্য কিন্তু তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ঈদের অনেক আগেই তার স্ত্রী বাপের বাড়ী চলে যায়।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস