গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সোনালী (১৮) বেগম নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

বুধবার ৭ আগষ্ট বিকেল আনুমানিক সারে তিনটার সময় আমবাগ পশ্চিমপাড়া রবিউলের ভাড়া বাসায় ওই ঘটনা ঘটে।

সোনালী বেগম জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ থানার বালুচর গ্রামের করিম হোসেনের মেয়ে।

সোনালীর বাবা করিম হোসেন জানান, জাহিদের সাথে এক বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে বিবাহ হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তারা কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ পশ্চিম পাড়া রবিউলের বাসায় ভাড়া থেকে আমার নিজ জুড গোডাউনে কাজ করতো। জাহিদ মাঝে মাঝে সোনালীকে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতো। সোনালী তা মুখ বুঝে সহ্য করতো।

গত কয়েকদিন আগে জাহিদ সোনালীর কাছে যৌতুকের ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্ত সে দিতে অস্বীকার করে।

এরই জের ধরে জাহিদ আমার মেয়েকে মারধর করে, মারধরের ঘটনায় সোনালী অসুস্থ হয়ে পরে। জাহিদ সোনালীকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সোনালীর বাবা আরো বলেন, বুধবারি আমার মেয়ের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে আসে। এবিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি জাহিদ, তাই জাহিদের আচরণ সন্দেহ জনক হওয়ায় আমি বকশিগঞ্জ থানায় পুলিশকে অবগত করি।

বকশিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুব আলম জানান, সোনালী বেগমের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোনালীর স্বামী জাহিদকে আটক করা হয়েছে।

সোনালীর বাবাকে কোনাবাড়ী থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাহিদ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কলাকান্দি গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে।

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক( তদন্ত) কলিন্দ্র নাথ গোলদার জানান, বিষয়টি আমরা জানতাম না। মেয়ের পরিবার বিষয়টি আমাদের থানায় অবহিত করেনি। আজকে জানার পর তাৎক্ষণিক আমাদের পুলিশ টিম বকশিগঞ্জ থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সোনালী বেগমের স্বামী জাহিদকে আটক করেছে বকশিগঞ্জ থানা পুলিশ।

মো.শহিদুল ইসলাম/গাজীপুর