বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন।

গাজীপুর কোনাবাড়ীতে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনে দফায় দফায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (২৪শে এপ্রিল) সকালে কোনাবাড়ী বিসিকের ভিতরে নাইট এ্যাংগেল লিমিটেড গার্মেন্টসে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান করছে।

শ্রমিকরা জানান, নাইট এ্যাংগেল গার্মেন্টসে প্রায় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি মাসের ১০থেকে ১২তারিখ মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে মালিকপক্ষ। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস থেকে স্টাফের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং ওয়ার্কারদের বেতন ফেব্রুয়ারী থেকে চলমান মাস পর্যন্ত এখন বেতন পরিশোধ করেনি।

সব শেষে গত ১৯শে এপ্রিল বেতন-ভাতা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয় মালিকপক্ষ। কিন্তু ২৪ এপ্রিল পার হলেও বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি।

বুধবার সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে গিয়ে বেতনের জন্য কাজ বন্ধ করে কারখানার মেইন গেটে অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানার সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিক মিঠুন চন্দ্র দে , আমিনুল, মাসুদ, রুমি, শাহআলমসহ শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করি। আমরা পুরো মাস ধরে মুদি দোকান থেকে বাকিতে বাজার সদায়।এছাড়া বাসা ভাড়ার টাকাও মাস শেষ হলে পরিশোধ করতে হয়। বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা এখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। বাড়িওয়ালা ও দোকানদাররা পাওনা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে বাহিরে নেমেছি।

কারখানার এক স্টাফ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, আমাদের মালিক আমাদেরকে ঠিক মত বেতন না দিয়ে গার্মেন্টসের টাকা সরিয়ে ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় এন.জেড নামক হাসপাতাল তৈরি করেন। আর আমরা গরিব মানুষ, আমাদের বেতন নিয়ে তালবাহানা করেন।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক আবদুস সালাম মাসুমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি বাচ্চা নিয়ে স্কুলে আছি পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন। পুনরায় আবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি আজই বেতন দিব, এবং লোক পাঠিয়ে দিব। হাসপাতালের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এটা আমি পাটনারে করেছি।

কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমদাদ হোসেন জানান,বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বারো মাসই বেতন নিয়ে ঝামেলা করে এটা নতুন কিছু না। মালিকের সাথে ফোনে কথা হয়েছে টাকা পাঠাবে এবং আমি উপস্থিত থেকেই শ্রমিকদের বেতনের বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।

মো.শহিদুল ইসলাম/গাজিপুর