ভেঙ্গে যাওয়া দেয়াল।

গাজীপুর মহানগর কোনাবাড়ী দেউলিয়াবাড়ী নতুন বাজার কাশিমপুর জেলখানা রোডের উত্তর পাশে ৪৩ বিঘা জমি বাউন্ডারির দেওয়াল ভেঙ্গে পাঁচজন পথচারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার ১৬জুলাই বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, মিরপুর মৌজার আর এস দাগ নং ৩৬৪/৩৬৫ এস.এ দাগ নং ২০১ এই দাগ গুলোর মধ্যে ৪৩ বিঘা বন বিভাগের জমি দখল করে বাউন্ডারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে রেখেছে মুশফিকা কামাল নামে ঢাকার এক বাসিন্দা।

রশিদ নামের এক ভুক্তভোগী বলেন ,প্রায় ৭ মাস আগে চার বিঘা জমির উপর স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাক্তির সহয়তায় এই বাউন্ডারি করেন।
এলাকবাসী জানান আমজাদ,ওবায়দুল, জামাল এদের সহযোগিতায় এ বাউন্ডারি দেওয়া হয়।

জহিরুল ইসলাম সুমন নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এই বাউন্ডারি করতে বাধা দেওয়ায় আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

এই মিথ্যা মামলায় আমাকে হাজিরা দিতে হয়।

লিজা নামের এক গার্মেন্টস কর্মী জানান, আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি এখন আমরা বড় কষ্টে আছি। তাও আবার দেওয়াল ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে আছে। এলাকাবাসী আরো বলেন, নামে মাত্র দেওয়াল করা হয়েছে। দেওয়ালের মাঝে নাই কোন পিলার।

এই অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদের জন্য এলাকাবাসী পক্ষে জহিরুল ইসলাম সুমন ঢাকা মহাখালী বন বিভাগের ডিপো বরাবরে একটি আবেদন করে।

আবেদনটিতে দেখা যায় মুক্তি যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব এড্যা.আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি তিনিও বিষয়টি সদয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ সেলিম রহমানও সুপারিশ করেছেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

জমি ভোগদখলকারী মুশফিকা কামালের সাথে নাম্বার কেউ দিতে রাজি হয়নি। অবশেষে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় মুশফিকা কামালের ম্যানেজার মোঃ ফয়সাল মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, এই বাউন্ডারির দেওয়াল বৃষ্টিতে ভাঙ্গেনি। কিছু দূষ্কৃতিকারীরা ধাক্কা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।

৫৭০ ফিট লম্বা দেওয়াল ধাক্কা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি। উল্টো অভিযোগ করলেন এর আগেও নাকি তিন চারবার এই দেওয়াল ভেঙ্গে ফেলেছিল দূষ্কৃতিকারীরা এবং তাদের লেবারদের মারধর করেছে।

এ বিষয়ে কোনাবাড়ী মেট্রোপলিটন থানায় একটি মামলাও হয়। মামলা নং ০৬ ধারা -১৪৩/৩২৩/৪৪৭/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ পেনালকোডে। বর্তমানে মামলাটা চলমান আছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের একটা দাবী ছিল রাস্তা দেওয়ার জন্য আমরা চার ফিট রাস্তা দিয়েছি। পাশে যে জমিটা আছে তারাও চারফিট দিয়েছে। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর দাবী আরো ১ ফিট জায়গা দিতে হবে, আমাদের মালিক তাও দিয়েছে। জমিটি বন বিভাগের জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন বিভাগের জমি হলে বন বিভাগ নেয় না কেন? তারা মামলা করুক যদি জমি বন বিভাগের হয় তাহলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসে জমি নিয়ে যাক।

এই জমি যদি বন বিভাগের হয় তাহলে গাজীপুরে সব জমি বন বিভাগের।

কথার শেষ হতে না হতেই ফোন কেটে দেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ সেলিম রহমানের সাথে তিনি বলেন,বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ৫৭০ ফিট লম্বা দেওয়াল পুরোটা ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে আছে। যা সাধারণ জনগণের চলালের পথে বাধার সূষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরোও বলেন, এই বাউন্ডারি করার সময় আমি নিষেধ করেছিলাম। তারা আমার কথা না শুনে কোন ক্ষমতার দাপটে বাউন্ডারি করলো আমি জানিনা। আমি বলেছিলাম আপনারা বাউন্ডারি করবেন সিটি কর্পোরেশনের প্লান অনুযায়ী করেন তারা আমার কথায় পাত্তাই দিলোনা। বন বিভাগের জমি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ এইটা বন বিভাগের জমি। বিষয়টা মুক্তি যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও আমাদের মেয়র সাহেব অবগত আছেন।

মো.শহিদুল ইসলাম/গাজীপুর