কিসামত চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কিসামত চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বি-তল ভবনের ছাঁদ ঢালাইয়ে অনীয়ম ঢাকতে প্লাষ্টার করার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কিসামত চন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একাডেমিক ভবনের সংকট দেখা দেয়। এ সংকট পুরনে চাহিদা ভিত্তিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে চার তলার ভিত্তির উপর দ্বি-তল ভবনের ৫টি শ্রেণি কক্ষ নির্মানের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের প্রকৌশল বিভাগ।

এজন্য দরপত্র আহবান করলে ৮৮ লাখ ১৩হাজার টাকা বরাদ্ধ হলেও ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ৬১৭টাকা চুক্তিতে কাজটি পান উৎস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে কাজটি কমিশনে ক্রয় করে শাহজামাল নামে স্থানীয় একজন ঠিকাদার কাজটি করছেন বলে প্রকৌশলীরা জানান।

নির্মাণ কাজ শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করলেও কর্নপাত করেনি প্রকৌশল বিভাগ। বিশাল ভবন তৈরী করলেও নেই শিক্ষার্থীদের ওয়াশ রুম বা টয়লেট। নেই প্রতিবন্ধিদের উঠার সিঁড়ি। ছাঁদ ঢালাই ৫টির দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ৩/৪ ইি র ঢালাই দেয়া হয়েছে।

প্রকৌশলীরা ছাড়াই দ্বি-তীয় তলার ছাঁদ ঢালাই দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে দ্বিতীয় তলার শেষ কক্ষে ছাঁদে সাঁটিং ভাল না হওয়ায় ছাঁদ হয়েছে ঢেউ খেলানো তিন ইি র। ফলে ঢেউয়ের এ ফাঁকাস্থান তথা ৫ ইি পুরনে দেয়া হচ্ছে নেটসহ দুই ইি র প্লাষ্টার। যা অল্প কিছু দিনের মধ্যে প্লাস্টার খুলে শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির শ্বঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

ঠিকাদারের রাজমিস্ত্রী সাইফুল ইসলাম ভবনের ছাঁদ ঢালাই পরিমাপ করে বলেন, কোথাও চার ইি আবার কোথাও একটু কম আছে। তবে দ্বিতীয় তলার শেষ শ্রেনি কক্ষের ছাঁদে যেটুকু ঘাটর্তি রয়েছে তা প্লাষ্টার করে সমান করে দেয়া হবে।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রকৌশলীকে বলা হলেও তারা কর্নপাত করেননি। বরংচ উল্টো ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে গোজামিল দিয়ে আসছেন। ছাঁদের ৫ইি র স্থলে ৩ইি র ঢালাই দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে বাকী দুই ইি পুরন নেট নিয়ে প্লাষ্টার করছেন ঠিকাদার। গত তিন দিন ধরে তারাহুড়া করে করা হচ্ছে এ প্লাষ্টার। কোমলমতি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে বিবেচনা করে বিষয়টি দেখতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ভবন নির্মান কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢালাইয়ে দিন ঢাকা থেকে অডিট টিম আসায় এ ভবনে সার্বক্ষনিক থাকতে পারিনি। তবে ছাঁদ ঢালাই কম বেশি হতে পারে। নেট দিয়ে প্লাষ্টার করে পুরন করা হলে সমস্যা হবে না। সামান্য ত্রুটি হয়েছে তবে বালিশ দুর্নীতির মত কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সাব ঠিকাদার শাহজামালের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন রকম মন্তব্য না করে উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুর রহমান সাহেবের কথা বলতে বলেন। আপনাদের সব কথার উত্তর তিনিই বলতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, অনেক কাজ চলমান থাকায় সব কাজ তদারকি করা সম্ভব হয় না। এ ভবনে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে মুল ঠিকাদার কাজে না আসায় সাব ঠিকাদার শাহজামাল কথা শুনতে চায় না। প্লাষ্টার করলেও সমস্যা হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর আলী বলেন, ছাঁদে প্লাষ্টার করার নিয়ম নেই। এমনটা হলে প্লাস্টার খুলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট