প্রিয়ার স্বামী মলয় সাহা কাজ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের একটি ভিডিও। ১৭ জুলাই বুধবার ট্রাম্প তার ওভালের কার্যালয়ে ধর্মীয়ভাবে নিপীড়িত বিশ্বের ১৭টি দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সেখানে ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হচ্ছে জানিয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় প্রিয়া ট্রাম্পের কাছে তাদের (সংখ্যালঘুদের) বাঁচানোর সহযোগিতাও চান।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রিয়া নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ট্রাম্পের কাছে এ দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন হচ্ছে জানিয়ে অভিযোগ করেন। প্রিয়া তার অভিযোগে জানান, এ দেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি তাদের এই অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তাদের জন্য সহায়তা চান। এ সময় ওই নারী আরও বলেন, সংখ্যালঘুরা নিজেদের দেশ ছাড়তে চান না। তিনি আরও জানান, তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে কিন্তু এ ঘটনায় তিনি কোনো বিচার পাননি।

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাত বাড়িয়ে দেয় প্রিয়ার দিকে। হাত ধরে তাকে জিজ্ঞেস করেন, কারা তার বাড়ি পুড়িয়েছে, জমি দখল করেছে? তখন ওই প্রিয়া উত্তর দেন, মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন তার জমিজমা দখল করে রেখেছে এবং তারা এ সকল কাজে রাজনৈতিক আশ্রয়ও পাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প আর সেসব অভিযোগের কোনো উত্তর না দিয়ে তার সহকর্মীদের কাছে জানতে চান, হেলিকপ্টার ল্যান্ড করেছে কিনা!

ইতোমধ্যেই এই ভিডিও নিয়ে হইচই পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। ট্রাম্পের কাছে করা প্রিয়ার অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারী বাংলাদেশি নাগরিকরা। উঠেছে দেশদ্রোহীতার প্রশ্ন। সবার এখন একটাই প্রশ্ন- কে এই প্রিয়া সাহা? জানা গেল সেই তথ্যও। প্রিয়া সাহা মহিলা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, রোকেয়া হলে থাকতেন। এখন একটি এনজিও আছে ওনার। বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০১৮ সালে তাকে মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ আছে, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রচুর বিদেশি ফান্ড কালেক্ট করেছেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর।

প্রিয়ার স্বামী মলয় সাহা কাজ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক), তিনি সেখানে সহকারী পরিচালক পদে কাজ করছেন। তাদের দুই মেয়ে কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত