আগুনের প্রতিকী ছবি

দৌলতদিয়া অভিমুখী একটি ফেরির ইঞ্জিনের সাইলেন্সার পাইপে আগুন ধরে যাওয়ায় ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি’ পাটুরিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, রো রো ফেরি কেরামত আলী ছোট বড় ২০টি গাড়ী ও যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রবল স্রোতের বিপরীতে ফেরিটি দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে যায়।

কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে নদীতে স্রোত বেশী থাকায় ফেরিটি বারবার চেষ্টা করেও ঘাটে ভীড়তে পারেনি। স্রোতের বিপরীতে দফায় দফায় চেষ্টা করার কারণে এক পর্যায়ে ফেরিটির ইঞ্জিনের সাইলেন্সার পাইপে আগুণ ধরে যায়। ইঞ্জিন দুর্বল থাকায় এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। তবে এতে ফেরির বড় ধরণের কোন ক্ষতি হয়নি। ফেরিতে থাকা গাড়ী বা যাত্রীদেরও কোন ক্ষতি হয়নি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরিটি দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ফিরিয়ে আনা হয়।

ফেরিতে থাকা গাড়ী ও যাত্রীদের অন্য ফেরিতে নিরাপদে দৌলতদিয়া ঘাটে পাঠানোর সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ফেরির যাত্রীরা মোবাইল ফোনে কিংবা মেসেঞ্জারে ফেরিতে আগুন ধরার খবর তাদের পরিবার ও স্বজনদের জানালে মুহুর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে খুবই চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যাত্রীদের পরিবার।

মাগুরা জেলা শহরের বাসিন্দা হোসেন সিরাজ বলেন তার ছেলে সিরাজুস সাইফ ওই ফেরির যাত্রী। সে রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের নবম সেমিস্টারের ছাত্র। বিকেল ৫টার দিকে সে ফেরিতে উঠেছে এবং সাড়ে ৭টায় সে তাকে ফেরিতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর জানায়। এতে সে খুবই চিন্তি ও উদ্বেগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে বিস্তারিত জানতে চায়।

সিরাজুস সাইফ বলেন, চারিদিকে অন্ধকার। কি হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না। ভয়ে আতন্কিত তিনি। এই প্রতিবেদক বিস্তারিত জানানোর পর তিনি কিছু আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত এবং ফেরি সংকটের কারণে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটে সাত শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক এবং দুই শতাধিক বাস ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে।

আইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক আজমল হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় লাগছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুন। পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী ফেরি স্রোতের কারণে ৩ কিলোমিটার ভাটিতে চলে যাচ্ছে। আবার ৩ কিলোমিটার উজান বেয়ে ফেরিটিকে দৌলতদিয়া যেতে হচ্ছে। এতে করে ফেরি পারে সময় লাগছে এক ঘন্টারও বেশী। এদিকে ১৫টি ফেরির মধ্যে ৩টি ফেরি বিকল থাকায় মাত্র ১২ টি ফেরি দিয়ে গাড়ী পারাপার করা হচ্ছে।

ফলে বিপুল সংখ্যক গাড়ি পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে। তবে এই সংকট মোকাবেলায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌপথের জন্য আরো দুটি ফেরি চাওয়া হয়েছে। বিকল ফেরিগুলি পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে। সেগুলি দ্রুত ফেরি বহরে যুক্ত হবে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই দুটি ফেরি এই রুটে যুক্ত হতে পারে বলে তিনি আশা করেন।

ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল বলেন, পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌপথে যে ফেরিগুলি আছে তার অধিকাংশই পুরাতন। স্রোতের বিপরীতে চলতে যেয়ে মাঝে মধ্যেই ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে। ছোট ফেরি স্রোতের প্রতিকূলে চলতেই পারছে না। তবে ফেরি মেরামতে সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট পুলিশ কন্ট্রল রুমের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আরাফাত রাসেল বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত এবং ফেরি সংকটের ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। পানি বাড়ার ফলে পন্টুন ডুবে যাচ্ছে। একারণে প্রতিদিনই পন্টুন সড়িয়ে উপরে উঠানো হচ্ছে। ফেরি চলাচল ব্যহত হওয়ায় ঘাটে বিপুল সংখ্যক গাড়ী আটকা পড়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ছোট গাড়ী পার করা হচ্ছে। আটকা পড়ছে ছয়শত পণ্যবাহী ট্রাক। পচনশীল, জরুরী পণ্য এবং শিশুখাদ্য বহনকারী ট্রাক ছাড়া অন্য ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, যানজট এড়াতে এবং যাত্রীসাধারণের সুবিধার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ছোট গাড়ী পারাপার করা হচ্ছে। ট্রাক টার্মিনালে এবং ঢাকা পাটুরিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক আটকে রাকা হয়েছে। গত ৩ দিন ধরে ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও ট্রাক আসছে। ফলে সমস্যা আরো বাড়ছে। একারণে তিনি ঢাকা পাটুরিয়া মহাড়কে ট্রাক চলাচল না করে তাদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছেন।

শাহজাহান বিশ্বাস/মানিকগঞ্জ