প্রেম হলো মায়া-ভালোবাসার সাথে সম্পর্কিত একটি উত্তেজনাপূর্ণ, যৌনতাপূর্ণ এবং রহস্যময় অনুভূতি, কোনো ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণের সাথে সম্পর্কিত কোনো আবেগীয় আকর্ষণ হতে উদ্বুদ্ধ একটি বহিঃপ্রকাশমূলক ও আনন্দঘন অনুভূতিও বটে। মনোবিজ্ঞানী চার্লস লিন্ডহোমের সংজ্ঞানুযায়ী প্রেম হলো- ‘প্রবল আকর্ষণ যা কোনো যৌন-আবেদনময় দৃষ্টিকোণ হতে কাউকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে এবং এতে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মনোবাসনাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।’

প্রেমের সম্পর্কে অপর ব্যক্তির প্রতি একইসাথে শক্তিশালী মানসিক এবং যৌন আকর্ষণ কাজ করে। প্রেমের সম্পর্কে যৌনতার তুলনায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি অধিক গুরুত্বের অধিকারী হয়ে থাকে সাধারণত। প্রেম নাকি হঠাৎ করেই হয়, কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই। হতে পারে। কিন্তু তাই বলে একজন নারী তার প্রেমিক বা একজন পুরুষ তার প্রেমিকা কেমন হবে সেটা কি ভাবে না? ভাবে নিশ্চয়। যদি ভাবে, তাহলে মনের মানুষের একটি ছবি তাদের মনের গহীনে অবশ্যই থাকবে। একজন নারী বা পুরুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার মানুষের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো আগে থেকেই ভাবে, তাই কারো মাঝে পছন্দের কোনো বিষয় দেখতে পেলেই তাকে ভালো লেগে যায়।

এই কাজটি সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি করে থাকেন। একজন কিশোরী ধীরে ধীরে বড় হতে হতে তার মনে কাঙ্ক্ষিত পুরুষের একটি ছবি এঁকে যেতে থাকেন। যেসব পুরুষের মাঝে তার এই কাঙ্ক্ষিত ভালোলাগাগুলোর ছায়া দেখতে পান, তাকেই সাধারণত মনে ধরে যায় নারীদের। এছাড়া আরও কিছু বিষয় নারীরা খুঁজে বেড়ায় পুরুষদের মাঝে, যেগুলো মিলে গেলে নারীরা সহজেই প্রেমে পড়ে যায়। কী সেই বিষয়গুলো? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আত্মবিশ্বাসী
আত্মবিশ্বাসী পুরুষরা সবসময় নারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। একজন পুরুষ যত সুদর্শনই হোক না কেন, সে যদি আত্মবিশ্বাসী না হয়, তাহলে তার প্রতি কোনো নারী বেশিদিন আকৃষ্ট থাকে না।

স্বচ্ছতা
পুরুষের কাছ থেকে সবসময় সততা ও স্বচ্ছতা আশা করে নারীরা। তাই দীর্ঘমেয়াদী সর্ম্পকে জড়াতে চাইলে কোনো নারীর কাছে মিথ্যা না বলাই ভালো। সত্য কথা বলতে দ্বিধা বোধ করলেও বলে ফেলুন, এতে নারীদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন।

যত্নশীল
নারীরা যত্নশীল পুরুষদের ভালোবাসে। তারা নির্ভর করার মত পুরুষদের পছন্দ করে যারা তাদের কাজে কর্মে সহায়তা করবে এবং খুটিনাটি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবে। যে সব পুরুষরা প্রতি বেলায় নিয়মিত খোজ খবর রাখে, তাদেরও পছন্দ করেন নারীরা।

রসবোধ ও বুদ্ধিমত্তা
সাধারণত একটু রসিক পুরুষরা প্রাধান্য পায় নারীদের কাছে। তবে সেই রসবোধ কোনো অবস্থাতেই হালকা রসবোধ নয়। ভালো সেন্স অব হিউমারসম্পন্ন পুরুষদের প্রতি এবং যে কোনো বিষয় নিয়ে রসালাপ করতে পারে- এমন পুরুষদের প্রতিই নারীরা বেশি আকৃষ্ট হয়।

এক নারীতে সন্তুষ্ট
কোনো নারীই চান না তার সঙ্গীকে অন্য কারো সাথে ভাগ করে নিতে। এ কারণে এক নারীতে সন্তুষ্ট থাকে এমন পুরুষদেরই পছন্দ করেন তারা।

উচ্চতা ও দৈহিক গড়ন
বিভিন্ন জরিপে দেখা গিয়েছে যে অধিক উচ্চতার পুরুষদেরই নারীদের বেশী পছন্দ। চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে নারীরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে পুরুষের উচ্চতা ও বলিষ্ঠ গড়নকে। সমান উচ্চতা বা নিজের চেয়ে কম উচ্চতার পুরুষদের নারীরা সাধারণত এড়িয়েই চলে।

যে দিতে পারে নিরাপত্তা
নারীরা সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির কথা ভাবে, সেটা হলো নিরাপত্তা। তারা তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে সবসময় নির্ভরতা ও নিরাপত্তা খোঁজে। এ কারণেই তারা সাহসী পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হন। যে পুরুষ তাকে নিরাপত্তা দিতে পারে, নারীর চোখে তাদের আকর্ষণ সর্বাধিক।

আজকের পত্রিকা/সিফাত