২৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

ঘুমের কম হওয়া সব বয়সের মানুষের জন্য একটি প্রধান সমস্যা। ঘুম শুধুমাত্র আপনার শারীরিক সুস্থতার জন্য না, আপনার মানসিক মঙ্গলের জন্যও প্রয়োজন। প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুমাতে হবে, তা নির্ভর করে বয়সের উপর। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন একজন ব্যক্তির অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত।

তবে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, শুধুমাত্র বয়স নয়, লিঙ্গভেদেও নির্ভর করে আপনার কতক্ষণ ঘুমানো প্রয়োজন।

ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, ২৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ৬৪ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী স্কুলের বাচ্চাদের ১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমানো উচিত।

গবেষণার মতে, পুরুষদের চেয়ে নারীদের ২০ মিনিট বেশি ঘুম দরকার। কিন্তু কেন? কারণ পুরুষদের তুলনায় নারীর ঘুমের সমস্যার অভিজ্ঞতা বেশি রয়েছে। বিভিন্ন কারণে নারীর ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে। চলুন কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক-

ব্যস্ত সময়

পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ব্যস্ত সময় কাটে। ছবি: সংগৃহীত

আপনারা সবাই এই বিষয়ে একমত যে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ব্যস্ত সময় কাটে। তারা ঘুম থেকে আগে জাগেন, শিশুদের যত্ন নেন, পারিবারিক কাজগুলি পরিচালনা করেন, তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে তাদের আরও বিশ্রাম নিতে হবে। সারাদিনের মাল্টি-টাস্কিং খুব ক্লান্তিকর এবং এতে মানসিক শক্তিরও প্রয়োজন পড়ে। যথেষ্ট ঘুমের অভাব আপনার শরীর এবং মনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘুমের সমস্যা

শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে নারীদের সঠিক ঘুম হয় না। ছবি: সংগৃহীত

জীবনের নির্দিষ্ট পর্যায়ে এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে নারীদের সঠিক ঘুম হয় না। তারা অস্থির হয়ে ওঠে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অনিদ্রা আরও প্রবল। ঘুমের গুণমানটি ভালো নয় বলেই তাদের আরও একটু ঘুম দরকার।

হরমোন পরিবর্তন

হরমোন পরিবর্তন ছাড়াও শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন, যা ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

মেনোপজ, গর্ভাবস্থা এবং মাসিক চক্রের সময় হরমোনাল পরিবর্তন নারীদের উপর একটি গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। হরমোন পরিবর্তন ছাড়াও শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন, যা ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। এটি শারীরিক অস্বস্তি ও ব্যথাও দেয়, যার কারণে তাদের একটু অতিরিক্ত বিশ্রাম দরকার।

ওজন বৃদ্ধি

ঘুমের অভাবে ওজন বৃদ্ধি বাড়ে। ছবি: সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি, পুরুষের তুলনায় নারীদের ওজন কমানো কঠিন এবং তা ঘুমের যথাযথ অভাবের কারণ হতে পারে। ঘুমের অভাবে ওজন বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া, ঘুমের বঞ্চনা কোরিটোসল নামে একটি স্ট্রেস হরমোন মুক্তির দিকে পরিচালিত করে। এই হরমোন ক্ষুধা বৃদ্ধি এবং স্থূলতা বাড়ায়।

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম

নারীরা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে বেশি ভোগে। ছবি: সংগৃহীত

নারীরা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে বেশি ভোগে। এর উপসর্গগুলো সন্ধ্যায় এবং রাতে আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে অনিয়ন্ত্রিত আবেগ সৃষ্টি করে। এই সমস্যা থেকে যেসব নারীরা ভুগছেন তাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়।

করনীয়

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে উঠা।
  • ঘুমানোর আগে আপনার মন শান্ত করার চেষ্টা করুন।
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে আপনার স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং টিভি থেকে দুরে থাকুন। ইলেকট্রনিক গ্যাজেট থেকে নির্গত নীল আলো আপনার ঘুম ব্যাহত করতে পারে।
  • বিছানায় ভালো মানের বালিশ, কোলবালিশ বা গদি রাখুন।
  • রাতে কফি, চা বা এলকোহল পান থেকে বিরত থাকুন।

আজকের পত্রিকা/রিয়া/সিফাত

SOURCEই টাইমস