মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

বিএফডিসি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি মৌলিক চিত্রনাট্য আহবান করেছে। যে কেউ চাইলেই নিজের লেখা চিত্রনাট্য পাঠিয়ে তার গল্পকে রুপালি পর্দায় দেখতে পারবেন। তবে এজন্য তাকে ৫০০ টাকা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে জমা দিয়ে একটি রশিদ সংগ্রহ করতে হবে।

যখন তার চিত্রনাট্য যাচাই বাছাই পূর্বক নির্বাচিত হবে তখন তাকে একটি সম্মানী প্রদান করা হবে। এমনটাই জানান পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন।

একজন লেখককে কেন এই ৫০০ টাকা জমা দিয়ে নিজের লেখা পাঠাতে হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে খোকন আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘একটি কমিটি এই চিত্রনাট্য যাচাই বাছাই করবে। এতে সময় লাগবে। কমিটির খরচ আছে। তাছাড়া এই খরচ না নিলে যে কেউ চিত্রনাট্য পাঠিয়ে দেবে। এ কারণে একটা নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট ধার্য করা হয়েছে।’

একটি দেশের চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা হচ্ছে সেদেশের পরিচালক সমিতি। সেখানেও কমিটির খরচ চালানোর জন্য সাধারণ লেখকদের কাছ থেকেও ন্যুনতম টাকা নিতে হয়।

এছাড়াও পরিচালক সমিতির সদস্য হতে হলেও একজন নবীন পরিচালককে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিয়ে পরিচালক সমিতির সদস্য হতে হয়। এত টাকা কেন একজন নবীন পরিচালককে পরিচালক সমিতিতে দিয়ে সদস্য হতে হবে। এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, ‘যে সিনেমা বানাবে তার জন্য এটা কোন টাকাই না। এটা সাধারণ সদস্যদের জন্য। কিন্তু কেউ যদি আমাদের সদস্যদের সন্তান হোন বা সহকারি পরিচালক সমিতির সদস্য থাকেন তাহলে তার জন্য অনেক কম টাকা নেই সদস্য হওয়ার জন্য।

কোন কোন খাতে এই টাকা চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি নেয় তা জানতে চাইলে বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘বৃদ্ধ পরিচালকদের চিকিৎসা ভাতা বাবদ, ও অন্যান্য বিভিন্ন অফিস খরচ বাবদ এটা নেওয়া হয়, আপনি অফিসে এসে কোষাধক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে জানতে পারবেন।’

অনেক স্বাধীন পরিচালক রয়েছেন অনেক কষ্ট করে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। অনেক পরিচালককে দেখা গেছে ছবির মাঝ পথে এসে টাকার জন্য বাকি কাজ শেষ করতে পারছেন না। তাদের জন্য পরিচালক সমিতি থেকে এত টাকা দিয়ে সদস্যপদ নেওয়া মরার উপর খারার ঘাঁ এর মতোই মনে হতে পারে।

পরিচালক সমিতির উচিত একজন নবীন পরিচালককে পথ দেখিয়ে দেওয়া কিন্তু এমনভাবে টাকার বিনিময়ে নিজেদের সদস্য করে নেওয়া কতটুকু আন্তরিকতা প্রকাশ করে তা ভেবে দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, এই সদস্যপদ ছাড়া কোন নবীন পরিচালক তার ছবি মুক্তি দিতে পারবে না। এতে পরিচালক সমিতি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-বিএফডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম হারুন-অর-রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক চাইলেই বাংলাদেশে বসে ছবি নির্মাণ করতে পারেন। এতে কারো কোন ধরনের সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ছবি নির্মাণের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একটা সদস্যপদ না নিলে কি যেনো ঝামেলা হয়ে আমি শুনেছি। এটা অবশ্যই দু:খজনক কারণ একজন নবীন পরিচালককে পথ দেখিয়ে দিয়ে সাহায্য করাই পরিচালক সমিতির কাজ হওয়া উচিত। তার ছবি মুক্তির বাধা হয়ে নয়।’

বিশিষ্টি চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদ বলেন, ‘আমরা চিত্রনাট্য চেয়েছি। এর জন্য ৫০০ টাকা অনেক কম। কারণ ১০টি ফটোকপি করলেই ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। আর পরিচালক সমিতির যে সদস্য ফি তা যদি কারো জন্য বেশি মনে হয়, সে পরিচালক সমিতি বরাবর আবেদনপত্র লিখলে পরিচালক সমিতি যদি তাকে যথাযথ মনে করে, ছবি তৈরির যোগ্য মনে করে তাহলে এই ফি কমিয়েও দিতে পারে।’

চলচ্চিত্র পরিচালক অমিতাভ রেজা বলেন, ‘প্রতিটা সংগঠন চালাতেই একটা ফি নির্ধারণ করা হয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই টাকাটা একজন নবীন তরুণ পরিচালকের জন্য একটু বেশি।’

তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘একটি সংগঠন চালাতে খরচের প্রয়োজন হয়। পরিচালক সমিতির যে সদস্য ফি তা হয়তো একটু বেশি। আমার মতে ২৫ হাজার টাকা হলে একজন তরুণের জন্য দেওয়াটা সহজ হয়।’

আজকের পত্রিকা/এমইউ