প্রতিবাদে জুতা ও ঝাড়ু মিছিল।

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ফুলবাড়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল বের করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে শত শত নেতাকর্মী ঝাড়ু ও জুতা হাতে মিছিলসহ শহর প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি ফুলবাড়ী বাজারের পোদ্দার ম্যানশন থেকে শুরু হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ ঘুরে বাজারের জিরো পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য রতন পোদ্দার, শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলী, ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের বোন লাভলী বেগম ও আনন্দ ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, গত ৩১ মার্চ ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম রব্বানী বিজয়ী হন। এরপর থেকে নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আতাউর রহমান শেখের লোকজনের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর চালান গোলাম রব্বানীর সমর্থকরা। ১৮ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলবাড়ী ব্র্যাক অফিসের সামনে ধাওয়া করে ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হারুনকে আটক করে গোলাম রব্বানীর সমর্থকরা। ওই সময় চেয়ারম্যান হারুনকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, তার ছেলে সরকার মনোয়ার পাশা, চাচাতো ভাই আপেল মেম্বারসহ কয়েকজন সমর্থক।

পরে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় তারা। গুরুতর আহত হারুন চেয়ারম্যান বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এরই প্রতিবাদে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার পরাজিত প্রার্থী আতাউর রহমান শেখ বলেন, নৌকার পক্ষে কাজ করায় বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান আমার কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে হামলা করে আসছেন। শুধু তাই নয়, আমার কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। একই কারণে শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, হারুন চেয়ারম্যানকে মারধরের ঘটনায় ফুলবাড়ী থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে আজ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আজকের পত্রিকা/কুড়িগ্রাম/এমএআরএস