ঐতিহ্য সার্কাস। ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবছর বৈশাখী সিদ্ধেশ্বরী মেলা মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে পুরাতন ঐতিহ্য সার্কাস, যাদু প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভাবে হচ্ছিলো না। বেশকিছু উদ্যোমী যুবক ধামশ্রেনী আলোর সন্ধান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে চালিয়ে আসছিলো।
এবারে সেই অবহেলিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সাহাযার্থে বৈশাখী মেলায় সার্কাস অনুষ্ঠান করার অনুমতি নিতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের একমাসের অনুমতি থাকলেও রমজান মাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ, আবহাওয়া বৈরিতার কারনে ১২ দিনের বেশী প্রোগ্রাম চালাতে পারিনি। ফলে সার্কাস কমিটি ও স্থানীয় আলোর সন্ধান কমিটির কয়েক লক্ষ টাকা লোকশান গুনতে হয়। বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমাজ প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের নজরে আসলে তারা আশ্বস্ত করে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে অনুমতি দেয়া সময়সীমারেখার মধ্যে বিনোদন অনুষ্ঠান করার সুযোগ থাকবে যদি এলাকার সামাজিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক থাকে ও পরিবেশ ভালো রাখতে পারে।
এদিকে রমজান মাস সার্কাস বন্ধ হবে জেনে পুর্বের ‘দা রাজমনি সার্কাস’ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে ফেললে সামাজিক এই সংগঠনটি লোকশান ও মান সম্মানের প্রশ্নে অন্যান্য নতুন সার্কাস মালিকদের সাথে আলোচনা করতে গিয়ে সৈয়দপুর ‘দা রওশন সার্কাস’ মালিকের সাথে নগদ এক লক্ষ টাকা অগ্রীম জমা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হলে তিনিও চুক্তিভঙ্গ করেন এবং জমা এক লক্ষ টাকা ফেরত নিয়ে গরিমসি করছেন।
কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে স্থানীয় যুবকরা এর মধ্যে সার্কাস ও মেলা ব্রোকার ঠাকুরগাঁও রানীসংকৈল নিবাসী মাসুদ মিয়ার কথামত নগদ ২৫ হাজার টাকা বায়না সহ চুক্তিবদ্ধ হলে তারাও প্রতারনার আশ্রয় নেয় বলে জানায় সার্কাস পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ধামশ্রেনী যুবলীগ সাঃসম্পাদক মো. মনছুর আলী। অতঃপর স্থানীয় কমিটির লোকজন রংপুর পার্টি ‘দা সেভেন স্টার সার্কাস’ ও যাদু প্রদর্শনী সহ বাচ্চাদের বিনোদনের বিভিন্ন সরন্জামাদি নিয়ে ঈদের পরদিন প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতি গ্রহন করে। কিন্তু ঈদছুটি, প্রশাসনিক জটিলতা সহ কিছু মানুষের নেগেটিভ চিন্তাভাবনায় ১১৩ জন শিল্পী, কলা কৌশলী ও স্টাফ এবং পশুপাখি সহ এত বড় যজ্ঞের খানাপিনা ও খোরাকি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সার্কাস মালিকপক্ষের। সার্কাস ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ভারাক্রান্ত মনে সাংবাদিকদের কে জানান, তাদের স্থাপনা এই মাঠে আনতে ট্রাকভাড়া সহ মোট খরচ চারলক্ষ টাকা।
প্রতিদিন থাকা খাওয়া বেতন সহ নীট খরচ পঞ্চার হাজার টাকা, সে হিসেব মতে গত পাচদিন যাবত তাদের মোট খোরাকি খরচ দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তিনি কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, মালিক আমাদের সর্বোচ্য দুই দিনের খোরাকি সহ আনুষাঙ্গিক খরচ দেন। কিন্তু আরো ৩ দিন পারমিশন জটিলতায় বসে থাকতে গিয়ে ধারদেনা করে স্থানীয় কমিটির সহযোগিতায় কোনভাবে চালালেও আজ থেকে তাদের শ্রমিকদের পশুপাখিদের খান খোরাকির কোন ব্যবস্থা করতে ব্যার্থ হবেন বলে জানান।
অন্যদিকে আলোর সন্ধান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালনায় আর্থিক সহযোগিতার লক্ষে বিনোদন মুলক অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও যুবলীগ ধামশ্রেনীর সাঃ সম্পাদক মনছুর আলী জানান, ‘সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহযোগিতার লক্ষে ও বিনোদন দেয়ার উদ্দেশ্যে আমরা সকলে ঐক্যমতে পৌছে এ কার্যক্রম হাতে নিয়ে এটিকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্টো বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয়ে কয়েক লক্ষাধিক টাকা যা শেয়ার পদ্ধতিতে তহবিল সংগ্রহের অর্থ পুরোটাই লসে লগ্নি হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আজ থেকে সার্কাস ও অন্যান্য বিষয়গুলো শুরু করতে না পারলে যে মহৎ উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে তা মুখ থুবরে পরবে। উভয়পক্ষের কয়েকলক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হবে পাশাপাশি এর একটি অর্থনৈতিক প্রভাব আলোর সন্ধান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালনা বিশাল বাধার সম্মুখীন হবে। অর্থনৈতিক সংকটে উদ্যোক্তাদের স্কুলটি বন্ধ করে দিতেও হতে পারে।’
স্থানীয় জনগনের দাবী সার্কাস সো চালুর অনুমতি ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হোক যাতে এটি সুষ্ঠ পরিচালনার মাধ্যমে বাহির থেকে আসা শিল্পী কলা কৌশুলীদের সমস্যা নিরসন ও প্রতিবন্ধীদের এই অর্থ তাদের উপকারে আসে।
আজকের পত্রিকা/মাসুদ পারভেজ রুবেল/কুড়িগ্রাম/রাফাত/আ.স্ব