কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণে বিশেষভাবে মনোযোগী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ নির্মূলের উদ্যোগ নিয়ে ১১ ডিসেম্বর বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতেই যদি কুষ্ঠ রোগী হলে কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে থেকেই যদি আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেই, তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি। তাহলে কিন্তু এই রোগটা আর বৃদ্ধি পায় না, তারা পঙ্গুত্ববরণ করেন না। নতুন কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সেটাও দেখতে হবে। সেই বিষয়টা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে প্রয়োজন। আমরা সেভাবেই দৃষ্টি দিচ্ছি।’

কুষ্ঠ সংক্রমণ নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই রোগটা সব এলাকায় সমানভাবে ছড়ায় না; পার্বত্য অঞ্চল ও নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের কিছু হতদরিদ্র এলাকায় বেশি দেখা যায়। যেসব এলাকায় (কুষ্ঠ) বেশি দেখা যাচ্ছে, সেসব এলাকার দিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে; চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এটা যদি করতে পারি তাহলে আমি মনে করি যে ২০৩০ লাগবে না। তার আগেই বাংলাদেশকে আমরা এই লেপ্রসি শূন্য করতে সক্ষম হব।’

কুষ্ঠ রোগীদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি কোনো ধরণের অবহেলা ও হেয় না করে সমাজের অন্য দশজন মানুষের মতো তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন নিশ্চিতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত