কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন হল

মনের দিক থেকে সাদা-সিদে ও ধার্মিক রুচিশীল এক ব্যবসায়ী সিলেটের হুমায়ুন আহমদ। গড়ে তুলেছেন সিলেটর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল মোড়ে বাংলাদেশের হোয়াইট হাউজ যার নাম কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন হল।

সাংবাদিকদের সাথে তরুণ ব্যবসায়ী হুমায়ুন

চন্ডিপুল মোড়ে এসে একটি ভবন দেখে থমকে দাঁড়ান জনগণ। সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে কাজ করে এক কৌতুহল। আসলে এই ভবনটা কি? তা প্রথমে বুঝে ওঠতে সময় লাগে অনেকেরই। সাদা ধবধবে ভবনটি দেখে অনেকের কাছে মনে হয় এটাকি- আমেরিকার ‘হোয়াইট হাউজ’।

খোজ নিয়ে দেখা যায় না এটা সিলেটের গৌরব রুচিশীল এক কনভেনশন হল। এখানে বসেন না কোন রাষ্ট্রনায়ক। সকলের জন্যই উন্মুক্ত ব্যবসায়ীক কাজে।
অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এ ভবনটি একটি আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন হল। যেটা দেখতে অনেকটা ‘হোয়াইট হাউজ’র মতো।

প্রায় ২৫০ শতক জায়গার উপর ‘কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল হল’ যাত্রা শুরু করে গত বছরের নভেম্বরে। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এ হলের বাইরে এবং ভেতরে চমৎকার রুচিশীল কারুকাজ করা হয়েছে। হলের সামনে রয়েছে অনেকটা মিনি ‘পার্ক’ এর মতো।

শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থাসহ আছে বড়দের বসে ‘আড্ডা’ দেয়ার স্থানও। বলা হচ্ছে, এটি দেশের মধ্যে একটি অন্যতম ব্যতিক্রম কনভেনশন হল।

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। জনশ্রæতি রয়েছে প্রবাসীদের অনেক অলস টাকা ব্যাংকে পড়ে রয়েছে। তারা সঙ্গত কারণে সেই টাকা কোথাও বিনিয়োগ করেন না। তবে এই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসিত হচ্ছে সবার কাছে। আর এই প্রশংসার নেপথ্যে রয়েছেন সিলেটের তরুণ ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহমেদ। তিনি এটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এ বিষয়ে কথা হয় হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে। জানালেন মজার তথ্য। সালটা ছিল ২০১৪। ব্যবসায়িক কাজে গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুর। অবস্থান করার জন্য ওঠেন ‘ফুলেরটন’ নামের একটি হোটেলে। এটি প্রায় দু’শ বছরের পুরনো এবং তা ব্যবহৃত হচ্ছে অনেকটা মিউজিয়ামের মতো। এই হোটেলের স্থাপত্যশৈলী ও পরিবেশ দেখেই এ ধরনের কিছু একটা প্রতিষ্ঠা করার ভাবনা আসে তার মাথায়।

দেশে ফিরে এ নিয়ে কথা বলেন তার মা জোসনে আরা মাসুদ ও একমাত্র ভাই ব্যবসায়ী সায়েম আহমেদের সঙ্গে। তারাও হুমায়ুনের ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পরের বছর তিনি নানা ডিজাইনের পুরনো আমলের ‘রাজকীয়’ সরঞ্জাম কেনার জন্য চলে যান চীন। দেশে ফিরে ২০১৬ সালের দিকে শুরু করেন ভবন নির্মাণ কাজ। এতে প্রতিদিন দেড়শ’ শ্রমিক প্রায় দুই বছর কাজ করেন।

প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল হলে মাসে অন্তত আট থেকে দশ দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। প্রতিদিন হলের ভাড়া হিসেবে নেয়া হচ্ছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ জন্মদিনের অনুষ্ঠান, করপোরেট অনুষ্ঠান, কনফারেন্স, সেমিনার ও সম্মেলনসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। রয়েছে ১৫শ’ আসনে একসঙ্গে বসে খাওয়ার সু-ব্যবস্থাও। তাছাড়া গাড়ি পার্কিং এর জন্য রয়েছে সুবিশাল জায়গা, আছে হেলিপ্যাড ব্যবস্থাও। কনভেনশন হলের এক পাশে রয়েছে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা।
রুচিশীল ব্যবসায়ী হুমায়ূন আহমেদের এ ধরনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুশিল সমাজ।

হুমায়ুন আহমদ বলেন, ‘ছাত্র জীবন থেকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। বাবার মৃত্যুর পর আমরা দুই ভাই ব্যবসার হাল ধরি। মায়ের নির্দেশ ও তার দোয়ার কারণে আজ ব্যবসায় সফলতা পাচ্ছি’। তিনি বলেন, ‘সিলেটকে নতুন করে চেনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের এই কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলটি করেছি। নিশ্চয়ই তা দক্ষিণ সুরমা তথা সিলেটের গৌরব বয়ে আনবে।’