ফেনী জেলা কারাগারে কনডেম সেল না থাকায় কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে।

জেলার দিদারুল আলম জানান, ফেনী কারাগারে কনডেম সেল ও ফাঁসির মঞ্চ না থাকায় সকালে হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে যৌন হয়রানি ও অন্য একটি মামলার শুনানি থাকায় আজ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়নি।

১৩ই নভেম্বর শুনানি শেষে তাদের কুমিল্লা কারাগার এবং অন্য দুই আসামি কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে। নুসরাত হত্যা মামলায় গত ২৪শে অক্টোবর ১৬ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৬ই এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুসরাত। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুসরাত। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই বাদি হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

২৯শে মে, এ মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। গত ১০ই জুন, আদালত মামলাটি আমলে নিলে বিচার শুরু হয়।

২৪শে অক্টোবর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনের ফাঁসির রায় দেয় আদালত।

চার্জশিটে উল্লেখিত আসামিরা হলেন- এস এম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) এবং মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।