উদ্ধার হওয়া অস্ত্র।

কুমিল্লায় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা ‘গ্যাং গ্রুপ’ গুলোর বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান শুরু করেছে কুমিল্লা পুলিশ ও প্রশাসন। মঙ্গলবার দিনভর একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন গ্যাং গ্রুপের অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং শহরের এসবি প্লাজার তিনটি দোকান থেকে অন্তত সাত শ’ আধুনিক ছোরা ও চাপাতি উদ্ধার করেছে।

আটককৃত ৩০ জন কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র। তাদের বেশির ভাগই ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। অভিভাবকদের অবহিত করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গ্যাং কালচারের নামে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে কুমিল্লার কিশোরদের একটি অংশ।

কুমিল্লা শহরের নজরুল এভিনিউ রোডে ও ঈদগাহ রোডে এই কিশোররা গড়ে তুলেছে কয়েকটি গ্যাং গ্রুপ। যাদের কোনটির নাম ‘র‌্যাক্স’, ‘এক্স সিএমএইচএস’, ‘এলআরএন’, ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’, ‘মডার্ণ স্কুল টু’ ও ‘ঈগল’। এই গ্রুপ গুলোর কাজ মূলত বখাটেপরা, হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালানো, মেয়েদের উত্যক্ত করা এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পরা। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছে কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মোন্তাহিন ইসলাম মিরণ।

মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জনি রায় ও কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছালাম মিয়ার নেতৃত্বে কুমিল্লা শহরের নজরুল এভিনিউ, কান্দিরপাড়, মোগলটুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে আড্ডারত অন্তত ৩০ জন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

সেই সাথে কুমিল্লা নিউমার্কেট সংলগ্নে অবস্থিত এসবি প্লাজায় দেবাশীষের তিনটি দোকান থেকে ‘সেভেন গিয়ার’, ‘সুইচ গিয়ার’, ‘মাছ মার্কা’, ‘পিস্তল মার্কা’ ইত্যাদি নামের অন্তত ৭ শ’ আধুনিক ছোড়া ও চাপাতি উদ্ধার করে। এসব ছোড়া আর কোন দিন বিক্রি করবে না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় বলে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছালাম মিয়া জানান।

তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমরা ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আটক করেছিলাম। যারা স্কুলের বাইরে আড্ডা দিচ্ছিল। তাদের অভিভাবকরা এ সব জানতো না। আমরা অভিভাবকেদের তা অবহিত করেছি এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়েছি। এই অভিযান আরো চলবে। অভিভাবকদের আরো সতর্ক হতে হবে যাতে তাদের সন্তানরা কোথায় কি করছে তা তারা জানে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ রোডের কর ভবন, মডার্ণ হাই স্কুলের সামনে, আড়ং য়ের সামনে এবং লিপি ডিজিটালের সামনে এসব গ্যাং গ্রুপের আড্ডা। স্কুল শুরুর সময় থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকাল থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত এই গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা আড্ডা মারে। প্রতি গ্রুপে ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য রয়েছে।

এই গ্রুপগুলোর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। এদের বেশির ভাগই স্কুলের ছাত্র। কোন কোনটির নেতা আবার স্কুল ছেড়ে যাওয়া বড় ভাই।

স্থানীয় লোকজন জানান, এ সব গ্রুপগুলোর সদস্যরা প্রায়ই হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালায়। নানা অজুহাতে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, মেয়েদের ইভটিজিং করে। শবে বরাতের রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোন্তাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়।

আজকের পত্রিকা/কুমিল্লা