কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কু্বি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৫০৬নং কক্ষে মাদক সেবনরত অবস্থায় ধরা খাওয়া শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ সেই তিন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি নোটিশে অভিযুক্তদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাওয়া হয়। আগামী মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে সশরীরে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থীকে তাদের বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নোটিশে।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন, বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক জসীম উদ্দিন বিজয়; পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজীব কুমার কর; একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খলিলুর রহমান শিবলু। তবে এই ঘটনার পরপরই শাখা ছাত্রলীগ থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদধারী ওই দুই নেতার একজনকে তার পদ থেকে স্থগিত এবং অপরজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের কাছে প্রেরিত শোকজে বলা হয়, গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রশাসন থেকে প্রেরিত জব্দকৃত মালামাল, প্রভোস্ট মো. জিয়া উদ্দিনের মাধ্যমে অগ্রায়ণকৃত পত্র পর্যালোচনা করে প্রক্টরিয়াল বডি প্রাথমিকভাবে মনে করে যে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থী মাদক গ্রহণ করে, মাদক সরবরাহ করে হলের শৃঙ্খলা নষ্ট করছে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।

এতে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ওই তিন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা ওই শিক্ষার্থীরা আগামী ২২ অক্টোবর প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির সম্মুখে বক্তব্যে উপস্থাপন করবে। অন্যথায় প্রক্টরিয়াল বডি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে।

শোকজ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে মাদক সেবনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি ওই শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় নিয়মিত হল পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মো. জিয়া উদ্দিন ও আবাসিক শিক্ষক আশীস চন্দ্র দাস হলের ৫০৬নং কক্ষে প্রবেশ করে সজীব কুমার কর, খলিলুর রহমান শিবলু ও জসীম উদ্দিন বিজয়কে মাদকাসক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। ওই সময় রুমের টেবিল, বালিশ ও তোশকের নিচে কাগজে মোড়ানো গাঁজা, মাদক সেবনে ব্যবহৃত প্রচুর পেপার, কিছু সাদা পাউডার, ওই তিন শিক্ষার্থীদের নিজের নয় এমন তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে হল প্রশাসন।