কুবিতে বৈশাখের প্রস্তুতি চলছে।

পহেলা বৈশাখ- ১৪২৬ কড়া নাড়ছে দরজায়। দেশের সব জায়গায় এখন বিরাজ করছে বৈশাখের আমেজ। সারা দেশের মত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও (কুবি) চলছে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মাঝে পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত তাদের নিজ নিজ বিভাগকে সাজাতে। তাদের মাঝে কেউ ব্যস্ত রং তুলি নিয়ে; কেউ বসেছেন ফুল, পশু, পাখির নকশা আঁকতে; কারও ব্যস্ততা প্ল্যাকার্ড বানানো নিয়ে; আবার কেউ কেউ বানাচ্ছেন বাহারি রকমের বাঙালিয়ানা পিঠা, মুড়ি-মুড়কিসহ নানারকম খাবার জিনিস।

‘দেখা হবে, কথা হবে বাংলায়’- এই বোধ থেকেই প্রতি বছরের এই বৈশাখময় এক সপ্তাহ শিক্ষার্থীরা মেতে থাকেন নানান উৎসবমুখরতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি সদস্য যেন অধীরে আগ্রহে প্রহর গুনে বলতে থাকেন, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের আয়োজন কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এবারের নববর্ষ যেন সুন্দর ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

নববর্ষ নিয়ে ক্যাম্পাসে কর্মরত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে যাচ্ছে। আনন্দ মুখর পরিবেশে শোভাযাত্রা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে এবং গেট সাজানো ও আলপনা আকা হচ্ছে। ক্যাম্পাস সাজানোর কাজ কে আমরা আনন্দের সাথে উপভোগ করছি।’

একই বিভাগের ১৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম নিলয় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিনটা পালন করে থাকি। ক্যাম্পাসের সব বিভাগই বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। তেমনি আমরাও আমাদের ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন কাজ করছি। ডিপার্টমেন্ট এর পক্ষ থেকে স্টলের আয়োজন করছি, সেখানে থাকবে বাহারি পিঠা, বিভিন্ন ফলের শরবত ও অন্যান্য খাবার।

পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সকল বিষয় হাতে নিয়েছে তা হল মঙ্গল শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খেলাধুলা এবং দুই দিন ব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

সাজ্জাদ বাসার, কুবি