কিম কার্দাশিয়ানের কিমিনো ব্র্যান্ডের অন্তর্বাস চালু। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি কিম কার্দাশিয়ান কিমোনো সলিউশনওয়্যার নামের একটি অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড চালু করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

জনপ্রিয় এই টিভি তারকা অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড চালু করা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস আপডেট করে। যেখানে তিনি লিখেন, ‘অবশেষে আমি আপনাদের সঙ্গে সেই প্রকল্পটি শেয়ার করতে পারবো, যা নিয়ে আমি গত বছর ধরে কাজ করছি। এটা নিয়ে আমার গত ১৫ বছর ধরে প্রবল উৎসাহ কাজ করেছে। কিমোনো পোশাকটি আসলেই নারীদের জন্য একটি সমাধান’।

টুইটারে কার্দাশিয়ান কিমিনো ব্র্যান্ড নিয়ে পোস্ট দেন। ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু কার্দাশিয়ানের এই ব্র্যান্ডের নামকরণ নিয়ে বেধেছে দ্বন্ধ। ‘কিমোনো’ নামটি মূলত জাপানি সংস্কৃতির একটি অংশ। জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এটি। কিমোনো বলতে সব ধরনের কাপড় বোঝাত, কিন্তু সাধারণত বর্তমানে কিমোনো বলতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের পরিহিত লম্বা কাপড় বোঝায়। জাপানিদের দাবি, কার্দাশিয়ানের ‘কিমোনো’ ব্র্যান্ড, সমৃদ্ধ জাপানি সংস্কৃতির জন্যে অবমাননাকর।

জাপানি কিমিনো। ছবি : সংগৃহীত

যদিও কার্দাশিয়ান ওয়েস্ট এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, এর সঙ্গে জাপানি কিমোনো পোশাকের কোনও সংযোগ নেই। ‘কিমোনো’ শব্দটি মূলত কিম কার্দাশিয়ানের ‘কিম’ শব্দটি থেকে নেওয়া হয়েছে। জাপানি কিমোওনো’র সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে তার এই ব্যাখ্যাতে সন্তুষ্ট নয় জাপানিজরা। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছে। অনেকেই ব্র্যান্ডের নাম বদলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আমার সংস্কৃতি, তোমার খেলার কোনো বস্তু নয়। নিশ্চয় তুমি তোমার পরিবারের বাইরে কাউকে সম্মান করো না?’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে চুরি করো না’।

কেউ কেউ তাদের পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত কিমিনো পোশাকের ছবি শেয়ার করে স্মৃতিচারণ করেছেন। যে পোশাকগুলোতে হয়তো তার মৃত দাদা, বাবা কিংবা মায়ের হাতের ছোঁয়া আছে অথবা তাদের নিজ হাতে এম্ব্রোডারির কাজ করা আছে।

কার্দাশিয়ানের কিমিনো ব্র্যান্ডের আলোচনা সমালোচনা জাপানের কিওটো শহরের মেয়র ডাইসাকু কদোকওয়া কানে যাওয়ার পর তিনি এই বিষয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি কিম কার্দাশিয়ানকে অফিশিয়ালি একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন যাতে সে নামটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করে দেখে। মেয়র ডাইসাকু কদোকওয়া চিঠিতে  লিখেন, ‘আমরা মনে করি যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, ‘কিমিনো’ নামটি তাদের জন্যে সম্পদ। তাই এটিকে একচেটিয়া ভাবে প্রচার করা অনুচিত’।

কিওটো শহরের মেয়র ডাইসাকুর খোলা চিঠি। ছবি : সংগৃহীত

এছাড়া মেয়র ডাইসাকু কিমো সংস্কৃতির সারাংশ অনুভব করতে এবং তাদের চিন্তাভাবনা এবং দৃঢ় ইচ্ছাকে বোঝার জন্য কার্দাশিয়ানকে কিওটো শহরে ভ্রমণে আসার আমন্ত্রণ জানান।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/