খাদিজা খাতুন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার খাদিজা খাতুন জর্ডানে বন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।

তিনি দেশে আসছেন কাল রবিবার ।

খাদিজার বাবা মরম আলী গণমাধ্যমকে  জানান, শনিবার বিকালে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি বিমানে শারজা হয়ে রবিবার  সকাল ১০টায় বাংলাদেশে এসে তিনি পৌঁছাবেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) জর্ডানে প্রবাসী এক সাংবাদিকের মাধ্যমে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করেন।

জর্ডানে কর্মরত গৃহ-শ্রমিক খাদিজা আক্তার গত ২ জানুয়ারি বাথরুম থেকে ইমোতে ভিডিও কল করে তার বাবার সঙ্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ওপর নির্যাতন কথা জানান। এ সময় স্বজনদের কাছে তাকে দ্রুত উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন।

এ খবর পাওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন খাদিজার বাবা। তার অপর মেয়ে সুমি আক্তার সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে উদ্ধারের জন্য দেশে পরিবারকে জানায়।

এনিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় কান্নাকাটি আর আহাজারি। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বিষয়টি নজরে আসে জর্ডান প্রবাসী সাংবাদিক সেলিম আকাশের। তিনি বিষয়টি জানান জর্ডান দূতাবাসের কর্মকর্তা প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মো. বশিরকে। এরপর তাকে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।

মঙ্গলবার তাকে উদ্ধারের পর রাখা হয় দূতাবাসে। পরে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সব ব্যবস্থা করে জর্ডান দূতাবাস।

বিমানের একটি টিকিট খাদিজার পিতার কাছে পাঠানো হয়।খাদিজাকে শনিবার বিকালে তুলে দেয়া হবে এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ার লাইনসের একটি বিমানে। রাতে শারজা হয়ে পরদিন রবিবার  সকাল ১০টায় খাদিজা নামবেন বাংলাদেশে।

খাদিজা আক্তার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের দিন কাঠুরে মরম আলীর মেয়ে।

মরম আলীর অভাবের সংসারে চার মেয়ে ও ছোট দুই ছেলে। চার মেয়েই বিয়ের উপযুক্ত হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে একজনকে সৌদি আরব ও অন্যজনকে জর্দানে পাঠান।

সৌদি আরবে যাওয়া বড় মেয়ের নাম সুমি আক্তার (২২)। সেও সেখানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তিনিও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের জন্য পরিবারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় দালালের মাধ্যমে তারা দুবোন সৌদি আরব ও জর্ডান যান।