শিক্ষকের পিঠুনিতে আহত ছাত্র।

ক্লাসের পড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদ্রাসার শিক্ষকের বেত্রাঘাতে সুমন মিয়া (১২) নামে এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে সহপাঠীরা।

এ ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে বিচার চেয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত শিক্ষার্থী সুমনের বাবা জোনাব আলী। বৃহস্পতিবার শরীরে আঘাতের কারণে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গভীর রাতে গোপনে সহপাঠীরা সুমনকে পালিয়ে নিয়ে এসে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা হাফিজিয়া মাদ্রসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী সুমন মিয়া উপজেলার উত্তর দলগ্রাম পাটোয়াটারী গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে। সে শ্রীখাতা হাফিজিয়া মাদ্রসার হেফজো শাখার ছাত্র।

আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও পরিবার জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার ক্লাশে পড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সুমন মিয়াকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল রশিদ। এ সময় সুমন অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসা না দিয়ে মাদরাসা কক্ষে আটকিয়ে রাখেন ওই শিক্ষক।

পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারাদিন আটকে রাখলে সুমন আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। গভীর রাতে সুযোগ বুঝে সহপাঠীরা গোপনে সুমনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুল রশিদ জানান, পড়ায় অমনযোগী হওয়ায় শাসন করতে গিয়ে বেতের আঘাতটা একটু বেশি লেগেছে মাত্র। ছাত্রদের একটু শাসন না করলে ওরা পড়তে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রীখাতা হাফিজিয়ার মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট