কালিয়াকৈরে মালিকহীন গরু জবাই করে যুবলীগ নেতার উৎসব

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাঝুখান এলাকায় গত বৃহস্পতিবার মালিকবিহীন একটি গরু জবাই করে দিনভর আনন্দ উৎসব পালন করেছেন মৌচাক ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মেম্বার।

মেম্বারের এ ধরনের কর্মকান্ডে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক মাস পূর্বে উপজেলার মাঝুখান এলাকায় আবু তালেবের বাড়ীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির একটি লাল রংয়ের গরু আসে। এসময় গরুটি আবু তালেব বেশ কিছুদিন লালন পালন করতে থাকেন এবং আবু তালেবের বাড়ীর ভাড়াটিয়া রাজা মিয়া বেশ কিছুদিন গরুটি দেখা শোনা করেন আসছিলেন। এর কয়েকদিন পর ভাড়াটিয়া রাজা মিয়া আবু তালেবের বাসা ছেড়ে দিয়ে একই এলাকার সোহাগের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয়।

পরে বৃহস্পতিবার ভোরে রাজা মিয়া কাউকে না জানিয়ে গরুটি তার নতুন বাসায় নিয়ে যায়। সকালে আবু তালেবের স্ত্রী গরু বের করার জন্য গেলে গরু দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির করতে থাকে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারে তাদের বাড়িতে পূর্বে থাকা ভাড়াটিয়া রাজা মিয়া ওই গরুটি নতুন ভাড়া বাসায় নিয়ে গেছে।

এসমন খবর পেয়ে আবু তালেব গরুটি আনতে গেলে রাজা মিয়ার বাসার মালিক ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহাগ হোসেন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরে সকালে ওই এলাকার প্রভাবশালী ইউপি সদস্য ও মৌচাক ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে গরুটি জবাই করা হয় এবং মাংস দিয়ে খিচুরী রান্না করে তার সহযোগীদের নিয়ে দিনভর আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন “ ইউএনও‘র অনুমতি নিয়েই গরুটি ১০ হাজার টাকা দাম ধরে জবাই করেছি এবং টাকাগুলো মাদ্রাসায় দান করেছি। জবাই করে মাংস খেয়েছি, তোমাদের কি? তোমরা সাংবাদিকরা যা পার কর গিয়ে”।

মাঝুখান মাদ্রাসার কোষাধক্ষ্য আতাউর রহমান জানান, এ বিষয়টি আমাদের জানা নাই, মাদ্রাসার তহবিলে কোন টাকা জমা হয় নাই।

উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোঃ হিরো মিয়া বলেন “ যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেনের নামে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী হাফিজুল আমিন জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই, আমাকে কেউ অবগত করেনি।

মো. তুহিন মোল্লা/কালিয়াকৈর/গাজীপুর