মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির ট্রাস্ট কতটা সঠিকভাবে চলবে সেটা এখন দেখার অপেক্ষায়। ছবি: সংগৃহীত

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অদ্ভুত রহস্যময় চরিত্র, অনেকক্ষেত্রে ঘৃণিতও। রাজনীতির মতো সিরিয়াস একটি ফিল্ডে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এত হাস্যরসাত্মক কৌতুকের সৃষ্টি এর আগে বাংলাদেশে কখনো হয়েছে বলে জানা নেই। এরশাদ মানেই যেন হাসির পাত্র! অথচ তাঁর ছিল দীর্ঘ এক বর্ণাঢ্য জীবন।

সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত…রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অলঙ্কিত না কলঙ্কিত করেছিলেন এরশাদ, সেসব বিচার-বিশ্লেষণ হয়তো তাঁর মৃত্যুর পর খুব নগণ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আজকের পত্রিকা এই অংশে থাকছে কারা আছেন এরশাদের সম্পত্তির ট্রাস্ট বোর্ডে-

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মনোনয়নপত্র জমাদানের পরপরই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে আসলেও মূলত তখন থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

গত ৭ এপ্রিল একটি ট্রাস্ট গঠন করে তাতে নিজের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন এরশাদ। সে হিসেবে তাঁর সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র মালিকানা এখন ট্রাস্টের। সে সময় এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছিলেন, নিজের অবর্তমানে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিরসনেই ট্রাস্ট গঠন করেছেন তিনি।

ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে এরশাদ ছাড়াও রয়েছেন তাঁর ছেলে এরিক এরশাদ, একান্ত সচিব ও ভাগ্নে মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তবে এরশাদ তাঁর ট্রাস্ট বোর্ডে রাখেননি স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ভাই জিএম কাদেরকে।

ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় লিখেছিলেন, তাঁর নগদ টাকার পরিমাণ ২৮ লাখের মতো। হলফনামায় এরশাদ বার্ষিক আয় দেখান এক কোটি সাত লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে তিনি আয় করেন দুই লাখ ছয় হাজার ৫০০ টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে সম্মানী হিসেবে ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা পান এরশাদ। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা জমা রয়েছে। বিভিন্ন শেয়ারে তাঁর অর্থের পরিমাণ ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। তাঁর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ও এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা; ডিপিএস রয়েছে ৯ লাখ টাকার।

এছাড়াও গুলশান ও বারিধারায় তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার দাম এক কোটি ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এর বাইরে ৭৭ লাখ টাকা দামের একটি দোকান রয়েছে তাঁর। যানবাহনের মধ্যে তাঁর রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা দামের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ, ১৮ লাখ টাকা দামের নিশান কার এবং ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের আরেকটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ। ট্রাস্টের নামে ঢাকা ও রংপুরের যে সম্পদ তিনি দান করেছেন তার অনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা।

বিভিন্ন সূত্র মতে, এই ট্রাস্টের সমস্ত সম্পত্তি মূলত এরশাদ তাঁর ছোট ছেলে এরিক এরশাদের জন্যই রেখেছেন। কিন্তু এরিক প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় এবং অটিস্টিক হওয়ায় এরশাদের মৃত্যুর পরেও যাতে অন্য কেউ এ সম্পত্তি ভোগ বা দখল করতে না পারে, সে কারণেই এই ট্রাস্ট গঠন করে গিয়েছিলেন তিনি। এই সম্পত্তি থেকেই এরিকের ভরণ-পোষণ করা হবে।।

বেঁচে থাকতে আলোচিত-সমালোচিত নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে অসংখ্যবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক, মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির ট্রাস্ট কতটা সঠিকভাবে চলবে সেটা এখন দেখার অপেক্ষায়।

আজকের পত্রিকা/সিফাত