জিকে গউছকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ।

জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ জি কে গউছ। ৩ মার্চ রবিবার ২টার সময় হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। একই সাথে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও ১৩ নেতাকর্মী কারামুক্ত হন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হবিগঞ্জের বিপুল সংখ্যক মানুষ আলহাজ জি কে গউছকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন। পরে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা জি কে গউছকে তার বাসভবনে নিয়ে যান।

এছাড়াও এই ৪টি মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন আলহাজ জি কে গউছের ছোট ভাই জি কে গাফফার, বিএনপি নেতা ইউপি মেম্বার ছামিউন বাছিত, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কুহিনুর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক শরীফ, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন, জেলা ছাত্রদল নেতা গোলাম মাহবুব, জেলা যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাবুল, এনামুল হক এনাম, আফিল উদ্দিন মেম্বার, সমুন ও বাবুল মিয়াসহ ১৩ নেতাকর্মী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন হবিগঞ্জ শহরের জে কে অ্যান্ড এইচকে হাই স্কুল ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় গত ১ জানুয়ারী একটি মামলা করা হয়। মোহনপুর এলাকার মৃত রইছ উল্লার পুত্র ও আওয়ামী লীগ কর্মী আশরাফ আহমেদ হারুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়াও এই মামলায় আসামি করা হয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও ৩০ নেতাকর্মীকে।

একই দিন শহরের যশেরআব্দা এলাকায় সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাধা প্রদান ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মৃত মঞ্জব আলীর ছেলে জুনাব আলী বাদী হয়ে সদর থানায় গত ২ জানুয়ারি আরও একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় ১০১ জনের নাম উলেখ্য করে অজ্ঞাত আরও ৩০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

শহরতলীর তেতৈয়া ভোট কেন্দ্রে গাড়ি ভাংচুর ও মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে তেতৈয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সাবেক মেম্বার তৈয়ব আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় ১০৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত ৩শ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

শহরের স্টাফ কোয়াটার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে আব্দুর রহিম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

ফয়ছল ইসলাম/হবিগঞ্জ/এমএআরএস/জেবি