আদালতে ওসি মোয়াজ্জেম। ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যায় সংশ্লিষ্ট আইসিটি মামলায় কারাগারে আটক সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিওতে ধারণ এবং সেটি ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় ঘটনায় মামলা দায়ের করেছিলেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

২৪ জুন সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আসামি মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলাদেশ সরকারের নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সে অনুযায়ী তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক। যদিও একজন ওসি সরাসরি প্রথম শ্রেণির নাগরিক না, তবে এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা আছে। দয়া করে আপনি ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দেন। ’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম ডিভিশনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামি বর্তমানে বরখাস্ত। তাই তার ডিভিশন বিষয়ে আপত্তি রয়েছে।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী জেল সুপারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

এর আগে, ২০ জুন বৃহস্পতিবার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জন্য কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ। এরপর বিচারক ডিভিশন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৪ জুন সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

চলতি বছরের ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ১২৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর ১৫ দিন পলাতক ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম।
চলতি বছরের ১৬ জুন দুপুরে হাইকোর্টে এক আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করা শেষে বের হয়ে যাওয়ার পর রাজধানীর শাহবাগ থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৭ জুন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন বাদী হয়ে মামালটি দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।

নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি ১ম পত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় মারা যান।

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে, একই সঙ্গে সকল গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ফলাও করা হয়। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যয় থেকে একে একে ঘোষণা আসে দোষিদের শাস্তি নিশ্চিত করার।

আজকের পত্রিকা/কেএফ