কাফনের কাপড় পাঠিয়ে সাংবাদিককে হুমকি

সাতক্ষীরা সদরের তুজুলপুর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও সমাজসেবক ইয়ারব হোসেনকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে সাতদিনের মধ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে দূর্বত্তরা।

সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন তুজুলপুর এলাকার মৃত. ইসহাক মোড়লের ছেলে। তিনি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি। এছাড়া তুজুলপুর কৃষক ক্লাব ও গাছের পাঠশালার পরিচালক।

হত্যার হুমকি দেওয়া চিঠিতে লেখা রয়েছে, ইয়ারব, সুমন সানার পেছনে লাগলে তোর অবস্থা নজরুলের মতো হবে। নজরুলকে মেরেছি রাস্তায়। তোকে মারবো তোর নিজ বাড়িতে। তোর সময় আছে মাত্র সাতদিন। কাফনটা পাঠালাম। রেখে দিস। ইতি তোর যম।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে অজ্ঞাত দূর্বত্তরা তুজুলপুর মসজিদের বারান্দায় সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনের নামে একটি প্যাকেট রেখে যায়। ইয়ারব হোসেন ওই মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। মসজিদের ইমাম আমীর হোসেন প্যাকেটটি নিজ হেফাজতে রাখেন।

শনিবার সন্ধ্যায় প্যাকেটটি ইয়ারব হোসেনের হাতে দেন মসজিদের ঈমাম। এরপর বেরিয়ে পড়ে হত্যার হুমকির ঘটনা।

প্যাকেটটিতে ছিল তিন খন্ড কাফনের কাপড়, আতর, সাবান, কর্পুর, গোলাপ পানি, সুগন্ধি, সুরমা।

সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা আমাকে মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। ওই ঘটনায় মামলাও হয়। সে মামলায় অনেক আসামী এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে। কেউবা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছে। ধারণা করছি জামায়াত-শিবিরের চক্রটি এই হুমকি দিয়েছে।

তিনি বলেন, চিঠিতে সুমন সানার নাম উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সুমন সানা একজন ইউপি সদস্য। তার সাথে আমার বন্ধুত্ব রয়েছে। গত ২২ জুলাই আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নজরুল ইসলামকে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

নজরুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তারাই আমাকে হুমকি দিয়েছে বলে মনে করছি। শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতাদের উপর গুলি করে হামলা চালিয়েছে শিবির ক্যাডাররা। সব মিলিয়ে আবারও আতঙ্ক শুরু হয়েছে গোটা সাতক্ষীরা জুড়ে।

ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আলামত হিসেবে হুমকি দেওয়া প্যাকেটটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা