বিপ্লবীর কোনো দেশ নেই, নেই কোনো কাঁটাতার। ছবি: সংগৃহীত

বিপ্লবের মৃত্যুহীন প্রাণ, যার কাছে এসে মৃত্যুও হেরে গেছে তার নাম চে গুয়েভারা। কাঁটাতার ছিঁড়ে যখন বিপ্লব ছড়িয়ে পড়তে দেখি সারা বিশ্বে তখন মনে পড়ে চে’র নাম। সত্যিই, বিপ্লবীর কোনো দেশ নেই, নেই কোনো কাঁটাতার।

শরীর জুড়ে বারুদের গন্ধমাখা আর্নেস্তো চে গুয়েভারা অর্জন করেছেন বৈশ্বিক বিপ্লবকে। তিনি বলেছেন, ‘সর্বোপরি, একজন বিপ্লবীকে সবসময় দৃঢ়ভাবে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সংঘটিত যে কোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।’ তাকে হত্যা করেও তার শক্তিশালী সেই রুখে দাঁড়ানোকে দমন করা যায়নি। চে’র ভাষায়, ‘আমি জানি তুমি আমাকে হত্যা করতে এসেছো, গুলি করো কাপুরুষ, তুমি শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করবে (তার বিপ্লবী চেতনাকে নয়)’।

১৪ জুন শুক্রবার মহান বিপ্লবী চে গুয়েভারার ৯১তম জন্মবার্ষিকী। পুরো নাম ‘আর্নেস্তো গেভারা দে লা সেরনা’। ১৯২৮ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তরুণ বয়সে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ার সময় সাইকেল নিয়ে যিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন বিশ্ব ভ্রমণে। ধনী গরীবের বৈষম্য, বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়নের যাতাকল দেখে তার কাছে বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়ে। তিনি দীক্ষা নেন মার্ক্সবাদে। গুয়াতেমালয়ায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।

১৯৫৫ সালের জুলায়ে চে’র সঙ্গে দেখা হয় একই মতাদর্শের কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে। গেরিলা যুদ্ধে কিউবার স্বৈরশাসক ফুলগেনসিও বাতিস্তার পতন ঘটায় এই দুই বিপ্লবী নেতা। কিউবায় মন্ত্রী হয়েও শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করতেন চে। রক্তে বহমান বিপ্লব তাকে যেন সবসময় তাড়া করে বেড়িয়েছে। ১৯৬৫ সালে তিনি আফ্রিকার নিষ্পেষিত মানুষের জন্যে যুদ্ধে নামেন। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে বলিভিয়ার জঙ্গলে শত্রুর ৯টি গুলি এসে বিদ্ধ করে এই বিপ্লবীর শরীরকে। সেই সঙ্গে গুলি করা হয় বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ সম্পূর্ণ মানুষটিকে। হ্যান্ডকাফ পরা মুষ্টিবদ্ধ হাতে তিনি তখন বলেছিলেন, ‘কাপুরুষ গুলি করো, বিপ্লবের মৃত্যু নেই।’

এলোমেলো উসকো খুশকো চুল, আঙুলের ফাঁকে চুরুট আর তীক্ষ্ম চোখের শক্তিশালী চাহুনিতে সাম্রাজ্যবাদের শিকড় উচ্ছেদ করা অগ্নিপুরুষ আর্নেস্তো চে গুয়েভারা বেঁচে আছেন পৃথিবীর সকল বিপ্লবী চেতনায়। শিকল ছিঁড়ে বেরোতে চাওয়া সকল মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে চে’র অমর বাণী- হাস্তালা ভিক্তোরিয়া সিয়েমপ্রে। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত