৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসব এর আসর। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের সমতা বজায় রাখার অঙ্গীকারে ‘ফিফটি-ফিফটি’ চুক্তি স্বাক্ষর করে কান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই চুক্তির বাস্তবায়ন হলো কি? এখন চলছে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসব।

কান সৈকতে নারী-পুরুষের সমতা রক্ষার লক্ষ্যে সই করা চুক্তির পর আয়োজিত এই উৎসবে প্রত্যেক বিভাগে নারীদের নির্মিত কাজকে প্রধান্য দেওয়ার জন্য এবারের মূল প্রতিযোগিতায় একজন কৃষ্ণাঙ্গসহ চার নারী পরিচালকে জায়গা করে দেন। এছাড়া এবারের উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে চারটি, আঁ সাঁর্তে রিগার বিভাগে আটটি, স্পেশাল স্ক্রিনিংস বিভাগে তিনটি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিভাগে আছে পাঁচটিসহ মোট ২০টি নারীদের নির্মিত চলচ্চিত্র যা অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেয়।

১৯ মে জমকালো আয়োজনে হলিউড-বলিউডের নামিদামি অভিনেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঐশ্বরিয়া রায়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কঙ্গনা রানওয়াসহ হলিউডের আছেন সালমা হায়েক, ইভা লঙ্গোরিয়া, এল ফ্যানিংসহ নামিদামি অভিনেত্রীরা। তারা জানিয়েছেন, বড় পর্দায় লিঙ্গ সমতার কথা ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হলেও কানের মতো উৎসবগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও আশানুরূপ নয়। যদিও সমাজকর্মীদের মতে চলচ্চিত্র শিল্পের মনোভাব বদলেছে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিন নারী নির্মাতা ও অভিনেত্রীরা।

মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ৪টি চলচ্চিত্রে মধ্যে রয়েছে সেনেগালিজ বংশোদ্ভুত ফরাসি নির্মাতা মাতি দিওপের ‘আটলান্টিক’, ফরাসি পরিচালক সেলিন সিয়ামার ‘পোর্ট্রেট অব অ্যা লেডি অন ফায়ার’, ফরাসি নির্মাতা জাস্টিন ত্রিয়েতের ‘সিবল’ ও অস্ট্রিয়ান পরিচালক জেসিকা হজনারের ‘লিটল জো’। যা মূল প্রতিযোগিতায় নারীদের নির্মিত চলচ্চিত্র মোটের উপর ২০ শতাংশেরও কম।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭২তম আসরের আউট লুক। ছবি: সংগৃহীত

কানে নারীদের জন্য কোনো কোটা না থাকায় উৎসব শুরুর আগের দিন কানের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো সংবাদ সম্মেলনে বলে দেন, ‘নারী হওয়ায় এগুলো অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা পেয়েছে তা কিন্তু নয়। আমরা নির্মাতাদের নির্মাতা হিসেবেই ভাবি।’

এবার কানে উদ্বোধনী সিনেমা ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ এর ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইনটনের মুখে শোনা গেছে, ‘১১ দশক ধরে নারীরা চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন। তাদের বানানো ছবির সংখ্যা অসংখ্য। প্রশ্ন হলো, কেন আমরা তাদের সম্পর্কে জানি না।’

এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরো জানান, কানের ইতিহাসে ৮২ জন নারী নির্মাতার ছবি জায়গা পেয়েছে অফিসিয়াল সিলেকশনে। অস্কারে ৯১ বছরের ইতিহাসে মাত্র ৫ জন সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। গোল্ডেন গ্লোবে ৭৬ বছরের ইতিহাসে সেরা পরিচালক বিভাগে মাত্র ১ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। ফরাসি অস্কারতুল্য সিজার অ্যাওয়ার্ডের ৪৪ বছরের ইতিহাসে কেবল ১ জন নারী সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের চলচ্চিত্র জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট নারী নির্মাতা, পরিচালক, অভিনেত্রী, স্ক্রিপ্ট সুপারভাইজর, অ্যাসিসট্যান্ট স্ক্রিপ্ট সুপারভাইজ, কস্টিউম ডিজাইনার, মেকআপ আর্টিস্টদের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ কম দেওয়া হচ্ছে। সাথে সাথে তাদের পারিশ্রমিকের দিক দিয়েও ঠকানোর তথ্য উঠে এসেছে রিপোর্টে।

আজকের পত্রিকা/এসএ/আ.স্ব/জেবি